• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
নাগেশ্বরীতে আধুনিক কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ‘পার্টনার কংগ্রেস’ ভাণ্ডারিয়ায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে প্রেস কনফারেন্স তানোর ভূমি অফিসের পেশকার সাজ্জাদ সুমনের বিরুদ্ধে ঘুষের টাকা নেওয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ​একটি খবরের সূত্র ধরে চরের কুঁড়েঘরে ইউএনও: দুই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবারে মানবিক আলোর স্পর্শ নাগেশ্বরীতে নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগ: সুপারের দাবি ‘ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্ব পালনের নির্দেশ পুলিশ কমিশনারের নাগেশ্বরী ব্লাড ব্যাংকের ২০২৬-২৭ সেশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ​সরকারি নিষেধাজ্ঞা বুড়ো আঙুল: রাতের আঁধারে ভোলার দৌলতখানের এসাক মোড়ে দেদারসে কেনাবেচা হচ্ছে ইলিশ নাগেশ্বরীতে বোয়ালেরডারা কবরস্থানের জমি ক্রয়ে ১০ হাজার টাকা অনুদান দিলেন হাজী সোহেল আসন্ন নাগেশ্বরী পৌরসভা নির্বাচন: মেয়র পদপ্রার্থী আজিজুল হকের নির্বাচনী গণসংযোগ

​সরকারি নিষেধাজ্ঞা বুড়ো আঙুল: রাতের আঁধারে ভোলার দৌলতখানের এসাক মোড়ে দেদারসে কেনাবেচা হচ্ছে ইলিশ

Reporter Name / ৪১ Time View
Update : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
জেলা প্রতিনিধি ভোলা
মা-ইলিশ রক্ষা ও প্রজনন মৌসুমে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সারাদেশে সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কিন্তু ভোলার দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী এসাক মোড় সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অসাধু চক্রের সহায়তায় দেদারসে চলছে ইলিশ মাছ ধরা ও কেনাবেচা। দিনের বেলায় লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও আঁধার নামলেই সেখানে জমে উঠছে ইলিশের জমজমাট হাট।
​ মা-ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নদীভিত্তিক কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও স্থানীয় কতিপয় অসাধু জেলে ও অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নদীর সীমানায় জাল ফেলছে। কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের ঝটিকা অভিযান এড়াতে তারা কৌশলে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত নদী থেকে ইলিশ আহরণ করছে।
​মাছ ধরে আনার পরপরই তা দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয় দৌলতখানের এসাক মোড় বা তার আশেপাশের গোপন স্পটগুলোতে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে নিয়মিত এ ধরনের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা কিছু ক্রেতা গোপন অডিও বা মোবাইল যোগাযোগের মাধ্যমে এসব মাছ কিনে নিচ্ছেন। ফলে প্রকাশ্য বাজারের রূপ না পেলেও অঘোষিত রাতের হাট হিসেবে গড়ে উঠেছে এই এলাকা।
​স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম মানতে যেখানে অধিকাংশ সাধারণ জেলে নদীতে নামা বন্ধ রেখেছেন, সেখানে নির্দিষ্ট এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রাতের অন্ধকারে আইন অমান্য করে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে মা-ইলিশের প্রজনন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে নিয়ম মেনে চলা নিরীহ জেলেরা আর্থিক ও খাদ্য সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
​এ বিষয়ে দৌলতখান মৎস্য অফিসে যোগাযোগ করা হলে কর্মকর্তা জীবন বাবু জানান, আমাদের এখানে নিয়মিত মৎস্য অফিসার নেই এবং জনবলেরও তীব্র অভাব রয়েছে। এর মধ্যেও আমরা নিয়মিত নদীতে টহল পরিচালনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে আমরা যারা দায়িত্বে আছি, তাদের এই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে যথেষ্ট হিমশিম খেতে হচ্ছে।
​মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীতে টহলের কথা বলা হলেও এসাক মোড়ের মতো কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
​সচেতন মহলের জোরালো দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব বা সিন্ডিকেটের তোয়াক্কা না করে এসাক মোড় ও তার আশেপাশের সংযোগ সড়কগুলোতে রাতের বেলা বিশেষ চেকপোস্ট ও নজরদারি জোরদার করা হোক। অসাধু ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষকেই চিহ্নিত করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক। একইসাথে, আইন অমান্যকারী এসব সিন্ডিকেটের পেছনে থাকা মদদদাতাদের খুঁজে বের করে দ্রুত আইনের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
​মৎস্য সম্পদ রক্ষায় দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে প্রজনন মৌসুমের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশ ও নদী গবেষকরা।

 

মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
জেলা প্রতিনিধি ভোলা
০১৬১৬৬৬৭৪৯৬


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd