• মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
সাভার ডিবির বিশেষ অভিযানে ১১০ পিস ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেফতার ভোলায় সামাজিক সংগঠন ‘স্বপ্নীল’র কমিটি গঠন মোহাম্মদ আলী নিরব বন্যাদুর্গত ৩০০ পরিবারের মাঝে ঢেউটিন, নির্মাণসামগ্রী ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ ‎প্রতিমন্ত্রীর নাম ও সিল ব্যবহার করে তদবির বাণিজ্য, চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার ভাণ্ডারিয়ায় সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে জখম॥ গ্রেপ্তার-১ তেজগাঁও কলেজে দুই দিনব্যাপী ‘লাল জুলাই’ উদযাপন, প্রশাসনের অনুপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ এমপিকে উপেক্ষা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন উদ্বোধনের অভিযোগে তানোরে জামায়াতের বিক্ষোভ বরুড়ায় ট্রাকভর্তি মাদক উদ্ধার আশুলিয়ায় নব্য মেরামতকৃত রাস্তায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ​ যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি: আইনি তোয়াক্কা না করায় বাড়ছে ‘টাইম বোম্ব’ ঝুঁকি

সম্পাদকীয় : পবিত্র ঈদুল আজহা (কোরবানি) থেকে আমাদের কি শিক্ষা গ্রহণ করা উচিৎ?

Reporter Name / ৩৭৮ Time View
Update : সোমবার, ৯ জুন, ২০২৫

সম্পাদকীয়,

এম ইমরান বিন ইসলাম, সহ-সম্পাদক, দৈনিক যুগান্তর বাংলাদেশ

সমগ্র বিশ্বের মুসলিম জাতির জন্য আত্মত্যাগের মাস আরবি বছরের শেষ মাস জিলহজ্ব মাস। পবিত্র এই মাসের ১০ই জিলহজ্ব বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহ হালাল পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে থাকেন। যাহা আল্লাহর আদেশ পালনে মুসলিম জাতির পিতা-হযরত ইব্রাহিম (আ:) থেকে শুরু হয়ে কেয়ামত পর্যন্ত চলমান থাকিবে এই কুরবানি।

পবিত্র কুরআনে সুরা কাউসারের আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হইয়াছে, ‘সুতরাং তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।’ তবে কোরবানির মর্মার্থ কেবল পশু জবাই করা নয়, বরং ইহার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য হইল মনের পশুত্বকে বিসর্জন দেওয়া। আমাদের অন্তরের ভিতর হিংসা,অহংকার, লোভ, লালসা, পরনিন্দা, গিবত, পাশবিকতা ইত্যাদি অন্যায় মূলক কাজ কে কোরবানির মাধ্যমে পরিশুদ্ধ করাই হইল প্রকৃত কোরবানি। পশু কোরবানি তাহার প্রতীকী ব্যাপার মাত্র। ইহার মাধ্যমে আল্লাহ-তায়ালা আমাদের অন্তর পরীক্ষা করিয়া থাকেন। সেই কথা তিনি স্পষ্ট করিয়া দিয়াছেন এই মহান বাণীতে: ‘তাহাদের (জবাই করা পশুর) গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, বরং তাহার নিকট পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া ও খোদাভীতি (সুরা: হজ্ব )।’

পবিত্র ঈদুল আজহার দিন শুরুতেই আমরা ঈদের নামাজ আদায় করি। এরপর পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করে এসেই সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করি। কোরবানির গোশত যথারীতি বিলিবণ্টন করি আত্মীয়স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশী এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে। ইহার মাধ্যমে সামাজিক সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠিত হয়। আমাদের উচিত পবিত্র ঈদুল আজহার এই ত্যাগের মহিমাকে বুকে ধারণ করে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে আরো সুন্দর ও অর্থবহ করিয়া গড়ে তোলা। কেননা অন্যের প্রতি সহানুভূতি, সহমর্মিতা এবং আত্মত্যাগের মানসিকতা ছাড়া একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়িয়া উঠিতে পারে না; কিন্তু আমরা আমাদের অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ লালসা, ক্রোধ ইত্যাদি কে কোরবানি দিতে কতটা সক্ষম হইয়াছি ?

আমরা মনে করি, পবিত্র ঈদুল আজহার আত্মত্যাগের আনন্দ হইতে শিক্ষা নিলে সমাজের কেহ নিরানন্দ ও বঞ্চিত থাকিতে পারে না। তাই এই ঈদুল আজহা আমারদের সকলের জন্য খুশির বার্তা নিয়ে আসে। আজ আমরা এই আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নিলাম সমাজে প্রতিটি ক্ষেত্রে হিংসা-বিদ্বেষ ভেদাভেদ ভুলে সুন্দরভাবে সমাজকে গড়িবো।

কেননা প্রতিনিয়ত দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এই ঈদ সকলের জন্য আনন্দময় হয়ে উঠুক এটাই সকলের প্রত্যাশা হওয়া উচিত। যাতে আমরা যদি ভেদাভেদ, হানাহানি ও হিংসা-প্রতিহিংসা ভুলিয়া ঐক্যবদ্ধ থাকিতে না পারি এবং একত্রে কাজ করিতে না পারি, তাহা হইলে ঈদ সকলের জন্য আনন্দময় হইয়া উঠিবে কীভাবে? এই জন্য আমাদের এমন এক মৈত্রির সমাজ গঠন করিতে হইবে, যেখানে নাগরিক হিসাবে কাহাকেও অবহেলা ও হতাশ করা যাইবে না। বিশেষ করিয়া ঈদের আনন্দ সকলের নিকট পৌঁছাইয়া দিতে হইলে সমাজের গরিব-দুঃখী, অভাবী, বিপদগ্রস্ত, ছিন্নমূল প্রভৃতি মানুষের প্রতি আমাদের সামাজিক দায়দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করিতে হইবে।কোরবানির এই ঈদ গরিব-দুঃখিদের জন্য।

সরকারের উচিত ঈদুল আজহা সংক্রান্ত বিশেষয়ে বরাদ্দ বা অনুদানের পরিমাণ বাড়ায়ে গরিব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
ঈদুল ফিতরের মত ঈদুল আজহায়ও সরকারিভাবে কোরবানির মাংস বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আমরা সকল পাঠক ও শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রতি জানাই আত্মত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হোক সকলের জীবন। সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা-ঈদ মোবারক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd