হামিদুর রহমান, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি :
সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে অটোরিকশা ও চার্জার রিকশার চালক-মালিক এবং মোটরসাইকেল চালকদের নিয়ে এক সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক অফিসে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে চালক ও মালিকদের সড়ক নিরাপত্তা, ট্রাফিক আইন এবং দায়িত্বশীলভাবে যানবাহন পরিচালনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সচেতন করেন।
কর্মশালায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার নূর আলম সিদ্দিকী। এ সময় ট্রাফিক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, সড়কে দুর্ঘটনা কমানো এবং যানজট নিরসনে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; চালক, মালিক, যাত্রী ও পথচারীসহ সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি অন্যদেরও আইন মানতে উৎসাহিত করতে হবে।
এ সময় অটোরিকশা ও চার্জার রিকশার চালক-মালিক এবং মোটরসাইকেল চালকদের উদ্দেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে সড়কের ওপর যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং না করা, উল্টোপথে গাড়ি না চালানো এবং নির্ধারিত রং ও সংশ্লিষ্ট বিধি মেনে যানবাহন পরিচালনার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ ছাড়া নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠানামা না করানো, চলন্ত অবস্থায় বেপরোয়া ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে যানবাহন না চালানো, মোটরসাইকেলে উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং চালক ও আরোহী উভয়ের হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
মোটরসাইকেলে অতিরিক্ত আরোহী বহন না করা, মাদক সেবন করে কোনো অবস্থাতেই যানবাহন না চালানো এবং যানবাহনের প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখার বিষয়েও চালকদের সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে ট্রাফিক আইন ও সড়ক পরিবহন সংক্রান্ত বিধিবিধান যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য চালক ও মালিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
কর্মশালায় বলা হয়, একজন চালকের সামান্য অসচেতনতা বা অসতর্কতার কারণে নিজের পাশাপাশি অন্য সড়ক ব্যবহারকারীদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে প্রত্যেক চালককে দায়িত্বশীল, ধৈর্যশীল ও সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালাতে হবে।
চালকদের চক্ষু পরীক্ষা ও সেবা প্রদান
সচেতনতামূলক কর্মশালার পাশাপাশি বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় অংশগ্রহণকারী চালকদের জন্য বিশেষ চক্ষু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চক্ষু সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চালকদের চোখ পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চক্ষু সেবা প্রদান করেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, পেশাদার চালকদের জন্য সুস্থ ও স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৃষ্টিশক্তির সমস্যা থাকলে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ কারণে চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা শুধু পুলিশের দায়িত্ব নয়; এটি চালক, মালিক, যাত্রী, পথচারীসহ সড়কের প্রত্যেক ব্যবহারকারীর সম্মিলিত দায়িত্ব। ট্রাফিক আইন মেনে চললে দুর্ঘটনা, যানজট ও সড়কে বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, নগরীর সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি এ ধরনের গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করেন, চালক-মালিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে মেনে চলার প্রবণতা তৈরি হলে রাজশাহী নগরীর সড়ক ব্যবস্থাপনায় আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।