মোঃ ইলিয়াছ খান
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বাউল শিল্পী আবুল সরকারের বিরুদ্ধে আল্লাহ তায়ালা ও রাসূলুল্লাহ (সা.)–কে অশালীন ভাষায় কটূক্তির অভিযোগে তাওহিদী জনতা ও ওলামায়ে কেরাম তীব্র নিন্দা জানিয়ে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা “মিথ্যা মামলা” অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (১ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেল ৩টায় আলফাডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
এ আয়োজনে অংশ নেন আলফাডাঙ্গা উলামা পরিষদ, কওমী উলামা পরিষদ এবং সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
ওলামায়ে কেরামের কঠোর নিন্দা
প্রেস ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন উলামা পরিষদ আলফাডাঙ্গা উপজেলার সভাপতি মুফতি সিরাজুল ইসলাম।
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন কওমী উলামা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা তামিম আহমেদ।
সঞ্চালনা করেন উলামা পরিষদের সেক্রেটারি মাওলানা আহসানুল্লাহ।
বক্তারা বলেন,
“আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য শুধু ধর্মীয় অনুভূতিই নয়, দেশের আইনকেও লঙ্ঘন করেছে। এই দোষীর শাস্তি নিশ্চিত করে সারাদেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।”
তারা আরও জানান, এমন কটূক্তি সমাজে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, তাই দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের দাবি
বক্তারা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে আসা তাওহিদী জনতার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তাদের ভাষায়—
“কটূক্তিকারীকে রক্ষা করতে গিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের ওপর মামলা দিয়ে হয়রানি করা গ্রহণযোগ্য নয়। এই মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।”
বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন ও মসজিদের ইমামদের উপস্থিতি
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন—
মুফতি কুতুবউদ্দিন, ইমাম, আলফাডাঙ্গা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ
মুফতি তৌফিকুল ইসলাম
মাওলানা আবু মূসা
কারী ইয়াসিন
মাওলানা হাবিবুর রহমান
মাওলানা শরফুদ্দীন
মুফতি মুজাহিদ
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আলফাডাঙ্গা শাখার সভাপতি মাওলানা শরিফুল ইসলাম এবং হাদী মো. জসিমউদ্দিনসহ অন্যান্য মসজিদ, মাদ্রাসা ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে উচ্চ ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষার দাবিতে একতাবদ্ধ হয়েছেন।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
বক্তারা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান—
“ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।”