মারুফ হাসান
ফটো প্রতিনিধি
২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই অকৃতকার্য হয়েছেন। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। সে হিসাবে ফেলের হার ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অন্যদিকে অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।
বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে বেশি বিপর্যয় দেখা গেছে ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে। ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে আইসিটি বিষয়ে ফেল করেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন। এই দুই বিষয়ে সম্মিলিতভাবে অকৃতকার্য হয়েছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন। ফলে এবারের ফলাফলে ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা বিশেষভাবে সামনে এসেছে।
এবারের পাসের হার গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন, এবার পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, ইংরেজি ও আইসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি শিক্ষাব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির মান নিয়ে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও পরীক্ষার সময়সূচি জানতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে।
সব মিলিয়ে এবারের এইচএসসি ও সমমানের ফলাফল শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।