• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে মইনীয়া যুব ফোরামের মানববন্ধন, নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি তানোরে অনুমতি ছাড়াই গভীর রাতে মাটি উত্তোলন: প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার কিনব্রিজের নিচে সুইপার কলোনী যেন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে মাদকের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে   ডিবি (উত্তর) অভিযানে ১ কেজি ৫০০গ্রাম গাঁজাসহ ৪ জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আশুলিয়া জামগড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিমেল মীরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪ বুড়িচং এ ৪৭তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত রাজশাহীর তানোরে বাম্পার বোরো ফলন সোনালী স্বপ্নে বিভোর কৃষক, তবে দুশ্চিন্তায় বাজার ও মৎস্যজীবীরা বিদায় অনুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্ত, ভান্ডারিয়ায় সংবর্ধিত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দ আনোয়ারায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা! ডিবি (উত্তর)-এর পৃথক অভিযানে ১.৫ কেজি গাঁজাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ায় বাদী ও আসামিসহ তিনজন কারাগারে প্রেরণ

Reporter Name / ১৭৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫

মোঃ শাহজাহান বাশার

বরগুনা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলায় শপথ নিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগে বাদী ও আসামিসহ তিনজনকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ আদেশে আদালত এক দৃষ্টান্তমূলক বার্তা দিয়েছেন যে, ন্যায়বিচারের পথে মিথ্যা সাক্ষ্যের কোনো স্থান নেই।

সোমবার (তারিখ) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস এ আদেশ দেন।

জানা যায়, মামলার বাদী হাফেজা মোসা. সুমাইয়া আক্তার মিম (২১) গত বছরের ২৮ জুলাই বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার শারিকখালী গ্রামের আবু হানিফ খানের ছেলে মো. মহিবুল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে ওই ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন।

বাদীর অভিযোগ ছিল— তার স্বামী মহিবুল্লাহসহ চারজন মিলে তার কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে শারীরিক নির্যাতন করেন।

এ মামলায় আসামি মহিবুল্লাহর বিরুদ্ধে বাদীসহ মোট পাঁচজন সাক্ষ্য দেন। সোমবার ছিল মামলার বাকি সাক্ষীর জন্য নির্ধারিত দিন।

এ দিন আদালতে দাঁড়িয়ে বাদী সুমাইয়া আক্তার মিম বলেন,“আমরা আপস করেছি। আমার মামলার ঘটনাটি সত্য ছিল না।”এ কথা শোনার পর আদালত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রনজুয়ারা সিপু বলেন,

“বাদী একজন কুরআনে হাফেজা। আমরা তাকে সম্মান করি। কিন্তু তিনি ও তার সাক্ষীরা আদালতে শপথ নিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরে নিজেই স্বীকার করেছেন যে মামলা মিথ্যা ছিল। এটি আদালত অবমাননার শামিল।”

তিনি আরও বলেন,“মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অপরাধে বিচারক বাদী হাফেজা মোসা. সুমাইয়া আক্তার মিম, তার নানা মো. শাহ আলম সিকদার ও আসামি মো. মহিবুল্লাহকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।”

পিপি রনজুয়ারা সিপু বলেন,“আসামি মহিবুল্লাহ বাদীকে প্রভাবিত করে আদালতে মিথ্যা বলাতে সহায়তা করেছে। এ কারণে আদালত তার জামিন বাতিল করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। বিচারক সাহসী ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমন রায় প্রচার হলে দেশে মিথ্যা মামলা ও সাক্ষ্য অনেকাংশে কমে যাবে।”

আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুল বারি আসলাম বলেন,“এতদিন আসামি আমার ল’ চেম্বারে আসতেন, আমি পাঁচজন সাক্ষীর জেরা করেছি। কিন্তু আজ তিনি আর যোগাযোগ করেননি। পরে শুনি, বাদীর সঙ্গে আপস করেছেন। যদি আবার আমার কাছে আসেন, তাহলে আদালতে জামিন চাওয়ার আবেদন করব।”

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতে শপথ নিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ফৌজদারি দণ্ডবিধির ধারা ১৯৩ অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ, যার শাস্তি সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এ ধরনের রায় দেশের বিচারব্যবস্থায় ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এই রায় সমাজে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—
“মিথ্যা মামলার আশ্রয় বা মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে কেউ পার পাবে না।”

এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে মিথ্যা মামলা রোধে ভূমিকা রাখবে বলে আইনজীবী মহল ও সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd