• সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
মামলার বাদীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ চাঁদপুরে জমি বিরোধের জেরে আব্দুর রব খানকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার; পরিবারের দাবি, মীমাংসার নামে ৩০ হাজার টাকা দাবি, পরে ৩ লাখ টাকার চাপ নজরুল বর্ষ উপলক্ষে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে স্কুল ছাত্রীকে হেনস্তা করার জন্য বখাটেকে পুলিশে দিলো স্থানীয় জনতা মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ভিতরবন্দের হিরার দক্ষিণ সুরমায় আবারও ‘রিজিক ফুডকার্ট’-এর বৈদ্যুতিক তার চুরি সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া তাণ্ডব: জশনে জুলুসকে ‘রাজনৈতিক রং’দেওয়ার প্রতিবাদ ,জুলকারনাইন সায়েরের প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকালে শিক্ষিকা নিহ/তের ঘটনায় মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ২ আগামী ১ সেপ্টেম্বর খুলছে সুন্দরবন প্রস্তুত হচ্ছে, জেলে-বনজীবী ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা

মামলার বাদীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ চাঁদপুরে জমি বিরোধের জেরে আব্দুর রব খানকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার; পরিবারের দাবি, মীমাংসার নামে ৩০ হাজার টাকা দাবি, পরে ৩ লাখ টাকার চাপ

Reporter Name / ১৯ Time View
Update : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার: চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪ নম্বর শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ভাটেরগাঁও এলাকায় জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আব্দুর রব খান (৫৮/৬২) নামে এক ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তাঁর পরিবারের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই তাঁকে রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। একই সঙ্গে জমি বিরোধ মীমাংসার নামে টাকা দাবি, টাকা দিতে না পারলে একের পর এক মামলা দিয়ে পরিবারকে হয়রানি এবং এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

পরিবারের দাবি, চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই রশিদ তাঁদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য চাপ দেন। বিরোধের সমাধান না করলে আব্দুর রব খানসহ তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে আব্দুর রব খানের সন্তানদের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা দিতে পারলে তাঁদের বাবাকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয় বলেও অভিযোগ পরিবারের। কিন্তু টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশের পরই আব্দুর রব খানকে রাজনৈতিক মামলায় আসামি করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। পরে পরিবারকে আরও মামলা দেওয়া এবং ৩ লাখ টাকা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে পরিবারের এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদনের সময় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

প্রাপ্ত অভিযোগপত্র, আদালতের নথি ও পুলিশের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভাটেরগাঁও এলাকায় জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। মো. আবদুর রব মিজি নামে এক ব্যক্তি চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, পৈতৃক সম্পত্তি না থাকায় তিনি অনেক কষ্টে কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করে পাঁচ বছরে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তাঁর পরিবার ওই জমির ওপর নির্ভরশীল এবং ওই জমি ছাড়া তাঁদের যাওয়ার মতো অন্য কোনো জায়গা নেই। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ক্রয়কৃত সম্পত্তির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, তাঁদের চলাচলের জন্য অন্য দিক দিয়ে রাস্তা থাকা সত্ত্বেও তাঁর জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়ার জন্য তাঁকে চাপ, গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেন তিনি।

অন্যদিকে, জমি দখল ও নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আব্দুল রব খান চাঁদপুর সদর মডেল থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগে তিনি দাবি করেন, গত ২৩ মার্চ ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে কয়েকজন ব্যক্তি আরও ১০ থেকে ১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে দা, ছেনী, লোহার রড, হেমারসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে নির্মাণাধীন ভবন ও ভবনের পিলার ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন করেন। তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাঁদের মারধরের জন্য তেড়ে আসা এবং ঘরবাড়ি দখলের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় বিষয়টি কাউকে জানালে খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয় বলে তাঁর অভিযোগ। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি পরবর্তীতে আদালত পর্যন্ত গড়ায়। প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, আব্দুর রব খান চাঁদপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় আবেদন করেন। আদালতে দেওয়া আবেদনে তিনি নিজেকে সংশ্লিষ্ট জমির মালিক ও ভোগদখলকারী দাবি করে বলেন, প্রতিপক্ষরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মালিকানাধীন ও দখলীয় জমি জোরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আবেদনে আরও বলা হয়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর জমির পাশে এসে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেয় এবং জমিতে মাটি কেটে গর্ত করার পাশাপাশি তাঁকে তাঁর মালিকানাধীন জমি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেয়। অর্থাৎ জমি ও রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে থানা, উপজেলা প্রশাসন এবং আদালতে পৃথকভাবে অভিযোগ ও আবেদন করার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

এর মধ্যেই গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ চাঁদপুর সদর মডেল থানায় এফআইআর নং-১২০ এবং জিআর নং-৯৮৭ হিসেবে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৮/৯/১০/১২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের এজাহারে বলা হয়, গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টা ২৬ মিনিট থেকে ১০টা ৩০ মিনিটের মধ্যে চাঁদপুর পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের খলিশাডুলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক, অর্থদাতা, পরামর্শদাতা ও বিভিন্নভাবে সহায়তাকারীরা সমবেত হয়ে সরকারবিরোধী মিছিল ও স্লোগান দেয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে কয়েকজনকে আটক করা সম্ভব হলেও আব্দুর রব খানসহ অন্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান।

পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মনির মিয়া আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে দাবি করেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আব্দুর রব খানকে গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট থানাধীন কদমতলী এলাকার হোটেল আল প্রিন্সের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩০ আগস্ট তাঁকে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আমলী আদালত, সদর, চাঁদপুরে পাঠানোর জন্য পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনে আব্দুর রব খানকে ৪ নম্বর শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং মামলার ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি মামলার ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন এবং তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই করে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তবে আব্দুর রব খানের পরিবারের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের ভাষ্য, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাপ ও হয়রানির মধ্যে ছিলেন। জমির বিরোধ মীমাংসা না করলে তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পরিবারের অভিযোগ, চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই রশিদ তাঁদের জমি সংক্রান্ত বিষয়টি সমাধান করতে চাপ দেন। সমাধান না করলে আব্দুর রব খান এবং তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে আরও মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে আব্দুর রব খানের সন্তানদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা দিতে পারলে তাঁদের বাবাকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু পরিবার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরবর্তীতে আব্দুর রব খানকে রাজনৈতিক মামলায় জড়ানো হয়। এমনকি পরিবারকে আরও মামলা এবং ৩ লাখ টাকা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও আব্দুর রব খানকে রাজনৈতিক মামলায় জড়ানোর অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক কামাল মিজি এবং বিএনপি নেতা শফিক কবিরাজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের মাধ্যমে তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় আব্দুর রব খানকে রাজনৈতিক মামলায় আসামি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বপন মাহমুদ, কামাল মিজি ও শফিক কবিরাজের বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

অন্যদিকে, পুলিশের মামলার নথিতে আব্দুর রব খানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মিছিল ও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—তিনি আদৌ ২৩ আগস্টের কথিত মিছিলের ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কি না, তাঁর মোবাইল ফোনের অবস্থান কোথায় ছিল, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে তাঁর উপস্থিতি রয়েছে কি না, মামলার প্রত্যক্ষদর্শী কারা এবং তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী প্রমাণ রয়েছে। পুলিশ যে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁকে শনাক্ত করার কথা বলেছে এবং ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কথা জানিয়েছে, সেগুলো তদন্তে কী ফল দিয়েছে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও প্রশ্ন উঠেছে, আব্দুর রব খানকে ঘিরে জমি বিরোধের অভিযোগগুলো, ২ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া আবেদন, ২৩ মার্চ থানায় দেওয়া ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগ এবং ২০ ফেব্রুয়ারি আদালতে করা ১৪৫ ধারার আবেদনের পর ২৪ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না। একইভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে করা ৩০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ, মামলা দিয়ে ভয় দেখানো, ৩ লাখ টাকা দেওয়ার হুমকি এবং পুলিশি চাপের অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি রাখে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয়টি আদালত দেখবেন। আব্দুর রবের নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের মামলা থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।” পরিবারের পক্ষ থেকে করা টাকা দাবি, মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি এবং জমি বিরোধের জেরেই আব্দুর রব খানকে রাজনৈতিক মামলায় জড়ানোর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে, পরিবারের অভিযোগে নাম আসা চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি তদন্তের কাজ করেছি। বিষয়টি ওসি স্যার জানেন। আমি এ বিষয়ে বলতে পারব না।” পরিবারের পক্ষ থেকে করা ৩০ হাজার টাকা দাবি, টাকা না দিলে মামলা দেওয়ার হুমকি এবং পরবর্তীতে ৩ লাখ টাকা দেওয়ার চাপের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলেও এসআই রশিদ এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে তার সমাধান হওয়া উচিত দলিলপত্র, খতিয়ান, নামজারি, দাগ-সীমানা, দখল এবং আদালতের আদেশের ভিত্তিতে। আর কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মতো গুরুতর আইনে মামলা হলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণ থাকা জরুরি। তাই আব্দুর রব খানের ঘটনায় একদিকে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী মামলার অভিযোগ ও প্রমাণ, অন্যদিকে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিবারের করা টাকা দাবি, মামলা দিয়ে হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ—দুই দিকই সমান গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত বিরোধ, অর্থনৈতিক প্রভাব কিংবা স্থানীয় প্রভাবের ভিত্তিতে নয়; বরং দলিলপত্র, আদালতের নথি, মামলার এজাহার, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ, মোবাইল ফোনের অবস্থানসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক। একই সঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা টাকা দাবির অভিযোগও যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করা হোক। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সেটিও স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের জমি ও রাস্তা নিয়ে বিরোধ, উপজেলা প্রশাসন ও থানায় একাধিক অভিযোগ, আদালতে ১৪৫ ধারায় আবেদন এবং এর পরপরই সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আব্দুর রব খানের গ্রেপ্তার—ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। একই সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে আনা রাজনৈতিক মামলার অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কী, পরিবারের করা টাকা দাবি ও হুমকির অভিযোগের সত্যতা কতটুকু এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবের কোনো ভূমিকা ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর নিরপেক্ষ তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd