মো:সেলিম রেজা আশুলিয়া
ঢাকার আশুলিয়ায় আদালতের স্থিতাবস্থা (Status Quo) ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক প্রবাসীর ক্রয়কৃত জমিতে বেআইনি অনুপ্রবেশ, বাউন্ডারি ওয়াল ও নবনির্মিত ঘর ভাঙচুর, মারধর এবং বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মোঃ মাসুদ মৃধা ও তাঁর সহযোগী মোঃ আব্দুল মমিন জীবনের নিরাপত্তা ও জমি রক্ষায় আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পাশাপাশি আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নথিপত্র ও আইনি পর্যালোচনায় সত্যতা নিশ্চিতে দালিলিক প্রমাণাদি বিশ্লেষণে দেখা যায়, নালিশি জমি ও আদালতের আইনি লড়াইয়ে মোঃ মাসুদ মৃধার অবস্থান সম্পূর্ণ আইনসম্মত ও সুসংহত। মালিকানা ও খাজনা পরিশোধের বিষয়ে দেখা যায়, ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন ড্যাফোডিল/পূর্ব ড্যাফোডিল সংলগ্ন পলাশবাড়ী মৌজার (জে.এল নং-৫৬৬) সি.এস ও এস.এ ২৪০, আর.এস ৯০৫ এবং বি.আর.এস ১১৯৩২ নং দাগের জমি মাসুদ মৃধা ক্রয় সূত্রে স্বত্বাধিকারী ও ভোগদখলকার। শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের খাজনা রশিদ (১৪৩৩ বঙ্গাব্দের) অনুযায়ী, খতিয়ান নং ৭৯৫২ (বি.আর.এস)-এর বিপরীতে সকল সরকারি কর ও ভূমি উন্নয়ন কর নিয়মিত পরিশোধ করা রয়েছে।
আদালতের স্থিতাবস্থা ও আইনি আদেশ থাকার বিষয়ে বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ঢাকার সিনিয়র সিভিল জজ আদালত (সাভার)-এ দায়েরকৃত দেওয়ানি মোকদ্দমা নং-৬৩৫/২৬-এ মোঃ মাসুদ মৃধা বাদী হয়ে আবেদন জানালে, দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের ১৫১ ধারা ও ৩৯ আদেশের আওতায় বিগত ১৭/০৭/২০২৫ খ্রিঃ ও পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত নালিশি সম্পত্তিতে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। একই সাথে বাঙ্কার বা বিবাদী পক্ষকে গৃহ নির্মাণে বা ভোগদখলে কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি না করার আদেশ দিয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে বিবাদী পক্ষের পূর্ববর্তী মামলা খারিজে বলা হয়, বিবাদী মোঃ আলী আকবর গং পূর্বে সহকারী জজ আদালতে যে দেওয়ানি মামলা (নং-৯০৪/২০১৮) দায়ের করেছিলেন, বাদীপক্ষের প্রসেস ফি/তদ্বীরের অভাবে দ্যা কোড অব সিভিল প্রসিডিউর (Order IX, Rule 2)-এর আওতায় বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালত, ঢাকা কর্তৃক খারিজ (Dismissed) হয়ে যায়। যা প্রমাণ করে প্রতিপক্ষ অন্যায়ভাবে জমি দখলের পাঁইতারা চালিয়ে আসছে।
ঘটনা ও অভিযোগের বিবরণ থেকে প্রকাশ পায়, স্থিতাবস্থার আদেশ বহাল থাকা সত্ত্বেও বিবাদী মোঃ মনিরুল ইসলাম কালু (৫০), মোঃ আলী আকবর (৫৫), মোঃ আদনান (২৫), মোঃ ছায়াদ (২০), মোসাঃ ববিতা (৪২) এবং তাদের সাথে অজ্ঞাতনামা ৩০-৩৫ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র (লাঠি, সোটা, লোহার রড, হাতুড়ি, ছ্যান ইত্যাদি) নিয়ে গত ২২/১০/২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১:৩০ ঘটিকায় বেআইনিভাবে জমিতে প্রবেশ করে।
সন্ত্রাসীরা জমির নবনির্মিত বাউন্ডারি ওয়াল ও বসতঘর ভেঙে আনুমানিক ১০,০০,০০০ (দশ লাখ) টাকার ক্ষতিসাধন করে। মাসুদ মৃধা ও তাঁর সঙ্গী বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে মারাত্মক হামলা চালানো হয়, এতে তাঁরা রক্তাত্ব জখম হন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পর আশুলিয়া থানার এসআই আসাদ মিয়া বিষয়টি তদন্ত করে বিবাদী পক্ষকে আদালতের নির্দেশের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এবং আগামী ০৩/১১/২০২৬ তারিখ আদালতে জবাব দাখিলের জন্য নোটিশ জারি করেছেন।
ভুক্তভোগী মোঃ মাসুদ মৃধা বলেন, আমি বৈধভাবে জমি ক্রয় করে খাজনা-খারিজ পরিশোধ করে ভোগদখলে আছি। আদালত আমার পক্ষে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার স্পষ্ট আদেশ দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও জমি হাঙ্গামাকারী চক্রটি আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গুন্ডাবাহিনী দিয়ে আমার সম্পত্তি ধ্বংস করেছে ও আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এদিকে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। অপর অভিযুক্ত আকবর ফোন ধরে পরবর্তীতে কল ব্যাক করার কথা বললেও আর কোনো যোগাযোগ করেননি। অন্যদিকে, হামলার দিন জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ (999) কল পেয়ে এসআই মোয়াজ্জেম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরেজমিন বিষয়টি পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বিস্তারিত বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে জানার জন্য থানার সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
আইন ও আদালতের তোয়াক্কা না করে এলাকাটিতে এমন ক্যাডারভিত্তিক তান্ডব চলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।