মোঃ শাহজাহান বাশার
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাসের বন্যা বইছে, ঠিক সেই সময় ধর্মীয় ও নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে তীব্র বক্তব্য দিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কাবা শরিফ, পৃথিবী, সূর্য-নক্ষত্র, বেহেশত ও দোজখের মালিকানা প্রসঙ্গে সরাসরি আল্লাহর সর্বময় কর্তৃত্বের কথা তুলে ধরে তিনি নির্বাচনের আগে দেওয়া কিছু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিকে পরোক্ষভাবে ‘শিরক’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
এক জনসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান প্রশ্ন করেন—
“কাবা শরিফের মালিক কে? এই দিনদুনিয়া, আমরা যে পৃথিবী দেখি, এই পৃথিবীর মালিক কে? এই সূর্য–নক্ষত্র যা দেখি, এর মালিক কে? বেহেশতের মালিক কে? দোজখের মালিক কে?”
তার এসব প্রশ্নের উত্তরে উপস্থিত জনতা একযোগে ‘আল্লাহ’ বলে সমস্বরে উচ্চারণ করলে তিনি বলেন,
“আপনারা সকলেই সাক্ষ্য দিলেন—পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, বেহেশতের মালিক আল্লাহ, কাবার মালিক আল্লাহ।”
এরপর নির্বাচনী রাজনীতির প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন,
“আরে ভাই, যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কি অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না। তাহলে কী দাঁড়াল? নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দিব, ওই দিব বলছে, টিকিট দেব, এমন সব কথা বলছে—যেটার মালিক মানুষ নয়, সেটার কথা যদি সে বলে, তাহলে সেটা কি শিরক করা হচ্ছে না?”
তারেক রহমানের ভাষায়,
“যেটার মালিক একমাত্র আল্লাহ, সবকিছুর ওপরে আল্লাহর অধিকার। কাজেই আগেই তো আপনাদের ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পর কেমন ঠকাবে—আপনারা এবার বুঝে নেন।”
তারেক রহমানের এই বক্তব্যে রাজনৈতিক সমালোচনার পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি মূলত জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আল্লাহর মালিকানাধীন বিষয়কে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার বানানো হলে তা শুধু প্রতারণাই নয়, বরং ঈমানের দিক থেকেও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই বক্তব্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিষয়টি নৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিএনপি নেতার এই বক্তব্যকে অনেকে নির্বাচনের আগে জনগণকে সচেতন করার একটি কৌশল হিসেবেও দেখছেন। তারেক রহমান মূলত বলতে চেয়েছেন—যে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষমতা মানুষের নেই, সে বিষয়ে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া মানেই জনগণকে ঠকানো।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।