মোঃ শাহজাহান বাশার ,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
জোর যার মুল্লুক তার’—এই চেনা কায়দায় জায়গা দখলের ভয়াবহ চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের জঙ্গলবাড়ি পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা, এক রত্নগর্ভা মা মোসাম্মৎ ফুল বানু।
ভুক্তভোগী ফুল বানু অভিযোগ করেন, তার স্বামী নজরুল ইসলামের মালিকানাধীন জায়গা দীর্ঘদিন ধরে দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। প্রতিপক্ষরা এখন শুধু জায়গা দখলের চেষ্টাতেই থেমে নেই, বরং তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় স্বামীর মালিকানাধীন জায়গায় হঠাৎ করে লাঠি-সোটা, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অনধিকার প্রবেশ করে প্রতিপক্ষ। তারা সীমানা প্রাচীরের সিমেন্টের পিলার ও বাঁশের বেড়া ভেঙে জায়গা দখলের চেষ্টা চালায়। ফুল বানু ও তার স্বামী প্রতিবাদ করলে তাদের উপর হামলার চেষ্টা হয়।
ভুল বানু জানান, তিনি চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে রক্ষা করে। তবে উপস্থিত লোকজনের সামনেই তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলামসহ মোট ২০ জনের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মোসাম্মৎ ফুল বানু। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন:
মো. সিরাজুল ইসলাম (কালিকাপুর দক্ষিণপাড়া),মো. হারুনুর রশিদ,মো. বাবুল মিয়া,মো. মোখলেছুর রহমান,মো. রাসেল,নান্টু মিয়া,মো. ইব্রাহিম হোসেন (জঙ্গলবাড়ি),মো. ইমান হোসেন,মো. ফারুক আহম্মেদ,মো. মিজান,মো. সোহেল,অমিত হাসান,মো. বাবুল মিয়া,মনির হোসেন (গাজীপুর),মো. শরীফ,মো. জামসেদ,মো. কাজী বাশার,মো. মাসুদ,মো. সুমন,মো. হুমায়ুন (জঙ্গলবাড়ি)
ফুল বানু ও নজরুল ইসলাম জানান, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। কিন্তু প্রতিপক্ষ বারবার আমাদের হয়রানি করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমি ১৪ বছর ধরে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ছিলাম। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীনও আমি কোনো প্রভাব খাটাইনি। ওনাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।”
বুড়িচং থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাকিব বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং বর্তমানে আদালতে মামলাধীন রয়েছে। তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, একজন রত্নগর্ভা নারী ও তার পরিবারের উপর এই ধরনের সন্ত্রাসী আচরণ শুধু নিন্দনীয়ই নয়, বরং সমাজে ভয়াবহ বার্তা দেয়। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার।