• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
এসপির কার্যালয়ের পাশেই জুয়ার আসর, গ্রেপ্তার ৪ পুলিশ সদস্য তানোরে ৭০ পিস ই/য়া/বা সহ যুবক আ/ট/ক নাগেশ্বরীতে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬ অনুষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটিতে আলহাজ হারিসুল বারী রনি নাগেশ্বরীর ২নং রায়গঞ্জ ইউপি নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদে মো. ইউসুফ আলীর প্রার্থিতা ঘোষণা শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দালাল কাউসার ছাড়া সেবা দেন না নায়েব নাসিরউদ্দিন শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তি ও কর্মমুখী শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে: ফজলুল হক মিলন ফকিরহাটে অজ্ঞাত পরিবহণের ধাক্কায় পিকআপ চালক নিহত ফকিরহাটে আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ প্রতিরোধে মাঠে মাঠে আলোক ফাঁদ নারী-পুরুষ-শিশু—সব বয়সের পোশাকে জমজমাট ‘আড়ং ফ্যাশন’ বুড়িচংয়ের হারিজ খান প্লাজায় পোশাকের বাহারি আয়োজন নিয়ে ‘আড়ং ফ্যাশন’

দক্ষিণ সুরমায় জুয়ার থাবায় বিপথগামী যুবসমাজ

Reporter Name / ৪২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আহমেদ আকবর

সিলেট

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন চায়ের দোকান, মোড় এবং খোলা জায়গায় দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ক্যারাম বোর্ড জুয়া এবং অনলাইন ক্যাসিনো জুয়ার দাপট। প্রযুক্তির অপব্যবহার আর স্থানীয় কিছু মহলের উদাসীনতায় এই মরণনেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে এলাকার উদীয়মান যুবসমাজ। প্রশ্ন উঠেছে—দক্ষিণ সুরমায় এই সর্বনাশা জুয়া খেলা কি আদেও বন্ধ হবে, নাকি তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ এভাবেই অন্ধকারের অতলে তলিয়ে চায়ের দোকানে ক্যারামের আড়ালে টাকার খেলা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও বাজারের চায়ের দোকানগুলোতে এখন ক্যারাম বোর্ডকে কেন্দ্র করে নিয়মিত জুয়ার আসর বসছে। একসময় যা ছিল কেবলই বিনোদন, তা এখন রূপ নিয়েছে প্রকাশ্য জুয়ায়। প্রতি বোর্ডে বা খেলায় মোটা অঙ্কের টাকা বাজি ধরা হয়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চায়ের দোকানগুলোতে কিশোর ও যুবকদের ভিড় লেগেই থাকে। এই জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে নানা ধরণের পারিবারিক ও সামাজিক অপরাধে।

অনলাইন ক্যাসিনো চায়ের দোকানের ক্যারাম জুয়ার চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে অনলাইন ক্যাসিনো ও ডিজিটাল জুয়া। দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থান, পার্ক কিংবা অলিগলিতে দলবেঁধে তরুণদের স্মার্টফোনে বুঁদ হয়ে থাকতে দেখা যায়। বিভিন্ন অ্যাপস এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে তারা হাজার হাজার টাকা হারাচ্ছে। নগদ বা বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন সহজ হওয়ায় এই জুয়া এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বেকার যুবকেরা এই মরণনেশার প্রধান শিকার জুয়া কি বন্ধ হবে দক্ষিণ সুরমায়?

এই জুয়ার জোয়ার কীভাবে থামানো সম্ভব—এই প্রশ্ন এখন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ সুরমায় জুয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে তিনটি স্তরে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে:আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি: পুলিশ ও র‍্যাবের নিয়মিত টহল এবং আকস্মিক অভিযান জোরদার করতে হবে। জুয়ার আসর পরিচালনাকারী ও অনলাইন জুয়ার স্থানীয় এজেন্টদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে এবং স্মার্টফোনে দীর্ঘক্ষণ কী করছে, সেদিকে অভিভাবকদের কড়া নজর রাখতে হবে। চায়ের দোকান মালিকদেরও জুয়ার বোর্ড বসানো থেকে বিরত রাখতে হবে।জনপ্রতিনিধি ও তরুণদের উদ্যোগ: স্থানীয় কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান ও সমাজসেবকদের উদ্যোগে জুয়াবিরোধী সচেতনতামূলক সভা ও যুবসমাজকে খেলাধুলা বা সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

দক্ষিণ সুরমার যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে এখনই জুয়ার এই জাল ছিঁড়ে ফেলতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি যদি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা না যায়, তবে এই জুয়ার বিস্তার বন্ধ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd