মোঃ শাহজাহান বাশার
ঝিনাইদহে ১৪ বছর বয়সী এক এতিম ইজিবাইক চালকের কাছ থেকে ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন লুটের ঘটনায় আন্তঃজেলা দস্যু চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত ইজিবাইক, একটি মোবাইল ফোন, আরও ৮টি মোবাইল ফোন এবং ইজিবাইক বিক্রির ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ১৪ বছরের শিশু মিশকাত, কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হিসেবে সে ইজিবাইক চালিয়ে সংসারের ভরণপোষণ করত।
গত ১৯ জুলাই ২০২৬ বিকেল ৫টার দিকে কোটচাঁদপুর রেলগেট এলাকা থেকে চারজন ব্যক্তি যাত্রীর ছদ্মবেশে মিশকাতের ইজিবাইকে ওঠে। পরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সুতরের খাল-বংকিরা মাঠ সংলগ্ন নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাকে মারধর করে মুখ ও হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর তার ব্যবহৃত ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর চাচা বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দস্যুতা ও ছিনতাই-সংক্রান্ত ধারায় রুজু হওয়ার পর ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, পিপিএম ঘটনার পরপরই রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল অভিযান শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও কুমারখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে দস্যু চক্রের মূল সদস্য মো. আকাশ সর্দার ওরফে “ডাকাত আকাশ”, মো. জিয়ারুল ওরফে জিয়া, মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. আখতার মোল্লাসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত ইজিবাইক, ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন, আরও কয়েকটি মোবাইল ফোন এবং ইজিবাইক বিক্রির নগদ ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছে যে তারা দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও পাবনাসহ বিভিন্ন জেলায় দস্যুতা ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরি, দস্যুতা ও ডাকাতির মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।