মোঃ শাহজাহান বাশার
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের দত্তপুর পূর্বপাড়া গ্রামে গৃহবধূর কোপে এনায়েত হোসেন বাহার (পিতা: আব্দুর রশিদ) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া গৃহবধূ ঝুমনা আক্তারের মুক্তির দাবিতে শনিবার (৫ জুলাই ২০২৬) তাঁর পিত্রালয় শাকতলা এলাকা থেকে কয়েক শত নারী পুরুষ কুমিল্লা কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ঝুমনা আক্তারের পরিবারের দাবি, প্রবাসী সুমন চৌধুরী রাসেলের স্ত্রী ঝুমনা আক্তারকে দীর্ঘদিন ধরে এনায়েত হোসেন বাহার বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতেন এবং অশ্লীল কুপ্রস্তাব দিতেন। অভিযোগ রয়েছে, ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুন ২০২৬ শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এনায়েত হোসেন বাহার ঝুমনার ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ঝুমনা আত্মরক্ষার জন্য ঘরে থাকা একটি বটি ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে বাহারের ঘাড়ে আঘাত লাগলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
অভিযোগ পক্ষের দাবি, ঘটনার পরপরই ঝুমনা আক্তার নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে ঘটনাটি পুলিশকে জানান। পরে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে আটক করে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
এলাকাবাসীর দাবি, এর আগেও ঝুমনা আক্তারের অভিযোগের ভিত্তিতে বাহারকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করেছিল। পরে স্থানীয় কয়েকজনের জিম্মায় ও মুচলেকার মাধ্যমে তিনি মুক্তি পান। মুচলেকায় ভবিষ্যতে কোনো ধরনের হয়রানি না করার অঙ্গীকার করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তারা।
শনিবার আয়োজিত মানববন্ধনে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। বক্তারা দাবি করেন, ঝুমনা আক্তার আত্মরক্ষার জন্য ঘটনাটি ঘটাতে বাধ্য হয়েছেন। তাই বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।