হামিদুর রহমান, তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহীর তানোর পৌরসভার গোল্লাপাড়া বাজারে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন এলাকাবাসী। স্মারকলিপির অনুলিপি প্রদান করা হয় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রাজশাহী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সার্কেল পুলিশ সুপার এবং তানোর থানার অফিসার ইনচার্জের নিকট।
অভিযোগের পটভূমি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তানোর উপজেলার কুঠিপাড়া গ্রামের সৎ ও সুপরিচিত মৎস্য ব্যবসায়ী আলহাজ্জ জালাল উদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এই মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অভিযোগ রয়েছে, তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজান এই মামলার পেছনে জড়িত।
গত ২২ মার্চ ২০২৬ তারিখে মিজানুর রহমান মিজানের মালিকানাধীন ডিজিটাল বরেন্দ্র কেবল টিভি নেটওয়ার্ক অফিসে কুঠিপাড়া গ্রামের মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি মেহেদী হাসান ভাঙচুর চালান। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও স্থানীয় জনগণ তাকে ঘটনাস্থলে দেখতে পান বলে জানা যায়।
এছাড়া, ঘটনার একদিন পর বরেন্দ্র কেবল নেটওয়ার্ক অফিসের ম্যানেজার মাসুম শেখ বাদী হয়ে তানোর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মানববন্ধনে বক্তাদের বক্তব্য
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভাঙচুরের ঘটনায় প্রকৃত দায়ী ব্যক্তি মেহেদী হাসান হলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নির্দোষ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন,
“যদি ভাঙচুরের ঘটনায় শাস্তি হয়, তাহলে প্রকৃত অপরাধী মেহেদী হাসানের বিচার হোক। কিন্তু নির্দোষ আলহাজ্জ জালাল উদ্দিনসহ অন্যদের নামে যে বানোয়াট মামলা করা হয়েছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এই ধরনের মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা কুঠিপাড়া গ্রামবাসীসহ তানোরবাসী কোনোভাবেই মেনে নেবে না। মানববন্ধনে কুঠিপাড়া গ্রামের নারী-পুরুষসহ তানোর উপজেলার সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় উপস্থিত সকলে একযোগে আলহাজ্জ জালাল উদ্দিনসহ সকল নির্দোষ ব্যক্তির নামে দায়েরকৃত মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
পাশাপাশি তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই মিথ্যা মামলা তদন্তপূর্বক বাতিল করার জন্য বিনীত আহ্বান জানান।
মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, অন্যায় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার বিরুদ্ধে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।