• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে মইনীয়া যুব ফোরামের মানববন্ধন, নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি তানোরে অনুমতি ছাড়াই গভীর রাতে মাটি উত্তোলন: প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার কিনব্রিজের নিচে সুইপার কলোনী যেন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে মাদকের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে   ডিবি (উত্তর) অভিযানে ১ কেজি ৫০০গ্রাম গাঁজাসহ ৪ জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আশুলিয়া জামগড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিমেল মীরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪ বুড়িচং এ ৪৭তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত রাজশাহীর তানোরে বাম্পার বোরো ফলন সোনালী স্বপ্নে বিভোর কৃষক, তবে দুশ্চিন্তায় বাজার ও মৎস্যজীবীরা বিদায় অনুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্ত, ভান্ডারিয়ায় সংবর্ধিত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দ আনোয়ারায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা! ডিবি (উত্তর)-এর পৃথক অভিযানে ১.৫ কেজি গাঁজাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

সাহস, সত্য ও সাংবাদিকতার এক অবিচল নাম — মতিউর রহমান চৌধুরী

Reporter Name / ১৯৭ Time View
Update : রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

মোঃ শাহজাহান বাশার,

বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে কিছু নাম থাকে, যাদের অবদান কেবল পেশাগত নয়—বরং তা একটি সময়, একটি দর্শন ও একটি সাহসী অবস্থানের প্রতীক। **মতিউর রহমান চৌধুরী** তেমনই একজন নাম। তিনি কেবল একজন সাংবাদিক নন, তিনি সাংবাদিক সমাজের এক জীবন্ত আইকন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের উত্তাল সময়ে, ১৯৭১ সালে নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মৌলভীবাজারে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হওয়া সেই তরুণই পরবর্তী সময়ে কলমকে অস্ত্র বানিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন আজীবন। এই অভিজ্ঞতা তার সাংবাদিকতাকে করেছে আরও দৃঢ়, আরও প্রতিবাদী।

বাংলা ভাষার ট্যাবলয়েড সাংবাদিকতায় এক নতুন মাত্রা যুক্ত করেন তিনি **দৈনিক মানবজমিন** প্রতিষ্ঠা ও সম্পাদনার মাধ্যমে। মানবজমিন কেবল একটি পত্রিকা নয়—এটি বহু নির্যাতিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর। মূলধারার বাইরে গিয়ে সাহসী সংবাদ পরিবেশন, ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা এবং সত্য প্রকাশে আপসহীন অবস্থান মানবজমিনকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

এছাড়া তিনি **ভয়েস অব আমেরিকা (VOA)**-এর বাংলা বিভাগের সংবাদদাতা হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের কথা তুলে ধরেছেন দীর্ঘদিন। একই সঙ্গে অধুনালুপ্ত **বাংলাবাজার পত্রিকা**র সম্পাদক হিসেবে তার ভূমিকা ছিল স্মরণীয়—যেখানে তিনি সংবাদকে সাহস ও মানবিকতার সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন।

টক-শো হোস্ট হিসেবেও মতিউর রহমান চৌধুরী ছিলেন ভিন্নধর্মী। তিনি কখনো চাটুকারিতা করেননি, আবার অযথা আক্রমণাত্মকও হননি। যুক্তি, তথ্য ও নৈতিক দৃঢ়তাই ছিল তার শক্তি। প্রশ্ন করতে তিনি ভয় পাননি—কারণ তিনি জানতেন, প্রশ্ন করাই সাংবাদিকতার আত্মা।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন পারিবারিক মানুষ। তার সহধর্মিণী **মাহবুবা চৌধুরী** এবং কন্যা **মেহজেব চৌধুরী** তার জীবনের প্রেরণার অংশ। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত শালীনতা ও মূল্যবোধ তাকে করেছে আরও সম্মানিত।

তার প্রাপ্ত আনন্দ আলো পুরস্কার কেবল একটি সম্মাননা নয়—এটি তার দীর্ঘদিনের নিরলস শ্রম, সততা ও সাহসী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি।

একজন তরুণ কিংবা কর্মরত সাংবাদিক হিসেবে আমরা যখন তার দিকে তাকাই, তখন দেখি—কীভাবে প্রতিকূলতার মাঝেও সত্যের পাশে দাঁড়ানো যায়। কীভাবে জনপ্রিয়তার মোহ উপেক্ষা করে বিবেকের কথা বলা যায়। মতিউর রহমান চৌধুরী আমাদের শেখান, সাংবাদিকতা কোনো চাকরি নয়—এটি একটি দায়, একটি ব্রত।

আজও তিনি প্রমাণ করে চলেছেন
সাংবাদিক ছোট হোক বা বড়, কলমের শক্তি কখনো ছোট হয় না।
এই কারণেই তিনি শুধু একজন সম্পাদক নন, তিনি আমাদের প্রেরণা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd