মোঃ শাহজাহান বাশার
বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তরাধিকার ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর পিতা-মাতার রেখে যাওয়া রাজনৈতিক আসনে বসে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর সন্তান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই দুই ব্যক্তিত্বের অবদান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তাঁদের ঘিরে বিতর্কও কম নয়। ফলে তাঁদের উত্তরাধিকার বহন করা শুধু সম্মানের বিষয় নয়, বরং একটি বড় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জও।
রাজনীতিতে পারিবারিক পরিচয় প্রাথমিক পরিচিতি এনে দিলেও দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে প্রয়োজন দক্ষতা, দূরদর্শিতা এবং সাংগঠনিক সক্ষমতা। তারেক রহমানের সামনে এখন সেই বাস্তব পরীক্ষাই উপস্থিত। দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে তিনি ঐক্যের প্রতীক এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনের আশার কেন্দ্র। সমর্থকরা প্রত্যাশা করছেন শক্তিশালী বিরোধী রাজনীতি, আধুনিক কৌশল এবং জাতীয় স্বার্থে দৃঢ় অবস্থান। অন্যদিকে সমালোচকরা তাঁর অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মামলাগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ফলে তাঁর নেতৃত্বের পথ একদিকে সম্ভাবনাময়, অন্যদিকে চ্যালেঞ্জপূর্ণ।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-এর রাজনীতি বহুমুখী চাপের মুখে রয়েছে—অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে বিতর্ক, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা এবং নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে মতভেদ। এই পরিস্থিতিতে তাঁর নেতৃত্ব কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাধিকারকে শক্তিতে রূপ দিতে হলে গণমানুষের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি, দলীয় শৃঙ্খলা জোরদার, ইতিবাচক রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ এবং তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবেগের স্থান বড় হলেও শেষ পর্যন্ত মূল্যায়ন হয় কাজের মাধ্যমে। জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ও খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায় বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে গভীর প্রভাব বিস্তার করে আছে। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নেতৃত্বের ধরনেও পরিবর্তন প্রয়োজন। তারেক রহমানের সামনে তাই দ্বৈত দায়িত্ব—পারিবারিক ঐতিহ্যের মর্যাদা রক্ষা এবং সমসাময়িক বাস্তবতায় কার্যকর নেতৃত্ব প্রদর্শন।
যোগ্য পিতা-মাতার রেখে যাওয়া আসনে বসা নিঃসন্দেহে গৌরবের, কিন্তু সেই গৌরব টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন দৃঢ়তা, সহনশীলতা ও দূরদর্শিতা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শেষ কথা বলে জনগণই। সময়ই নির্ধারণ করবে, এই উত্তরাধিকার কতটা শক্তিতে রূপ নিল এবং নেতৃত্ব কতটা ইতিহাসে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে সক্ষম হলো।