• বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
তানোর জুড়ে আম–লিচুর সোনালি মুকুলে সুবাসিত গ্রামবাংলা মধ্যনগরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ মনিটরিং অভিযান, তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা আশুলিয়া-সাভারে পৃথক অভিযানে ৭ গ্রাম হেরোইন, ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও ৩০ পিস ইয়াবাসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ধর্মপাশায় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের দায়ে একজনের ৬ মাসের কারাদণ্ড ধর্মপাশায় পুলিশের অভিযানে অনলাইন জুয়া চক্রের ৮ সদস্য গ্রেফতার সময়নিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা: সচিবালয়েই শুরু ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন মাদকের শেকল ভাঙতে কঠোর আইন ও সামাজিক জাগরণ জরুরি ভোলার দৌলতখানে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, নির্যাতনের অভিযোগে স্বামীকে ঘিরে প্রশ্ন। দুই যুগেরও বেশি মসজিদে বসবাস রত মুয়াজ্জিন পেল এমপির সহায়তা গভীর রাতে কুমিল্লায় প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কাটায় ৩ এক্সক্যাভেটর জব্দ

মাদকের শেকল ভাঙতে কঠোর আইন ও সামাজিক জাগরণ জরুরি

Reporter Name / ২৪ Time View
Update : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

সমাজের নীরব ঘাতক আজ মাদক। এটি শুধু একটি ব্যক্তি বা পরিবারের সমস্যা নয়; এটি ধীরে ধীরে গোটা সমাজব্যবস্থাকে ভেতর থেকে পচিয়ে দিচ্ছে। মাদক মানুষের বিবেককে নিস্তেজ করে, অন্তরকে কলুষিত করে এবং তাকে অন্যায় ও অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। চুরি, ছিনতাই, খুন, পারিবারিক সহিংসতা—বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাদকের ছায়া দেখা যায়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ এখন সময়ের দাবি।

মাদক সমস্যার মূলত তিনটি স্তর রয়েছে—
১. মাদক ব্যবসায়ী,
২. গ্রাম-গঞ্জে সরবরাহকারী চক্র,
৩. মাদক সেবনকারী।

এই তিনটি স্তরকে যদি কার্যকরভাবে আইনের আওতায় আনা যায় এবং যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তবে সমাজের অর্ধেক অপরাধ এমনিতেই কমে আসবে। ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীরা লাভের আশায় যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে, সেবনকারীরা ধীরে ধীরে নিজের জীবন, পরিবার ও সমাজের ওপর বোঝা হয়ে উঠছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মাদক উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ ও বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—আইনের যথাযথ প্রয়োগ কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে? অনেক সময় দেখা যায়, প্রভাবশালী চক্র আইনের ফাঁকফোকর গলে বেরিয়ে যায়, আর ছোটখাটো আসামিরাই শাস্তির মুখোমুখি হয়। এ বৈষম্য দূর করতে হবে।

মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সামাজিক ও নৈতিক জাগরণ। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন—সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। বেকারত্ব ও হতাশা অনেক সময় মাদকের দিকে ঠেলে দেয়; তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনকারীদের কেবল অপরাধী হিসেবে দেখলে চলবে না; অনেক ক্ষেত্রে তারা রোগী। তাদের জন্য পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং ও চিকিৎসার ব্যবস্থা বাড়াতে হবে। কঠোরতা ও মানবিকতার সমন্বয়েই টেকসই সমাধান সম্ভব।

সবচেয়ে বড় কথা, যেকোনো অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে ঘৃণা ও শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করতে হবে। আইন সবার জন্য সমান—এই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা না হলে সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কখনো সম্ভব নয়।

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে আজই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আমরা কি নীরব দর্শক হয়ে থাকব, নাকি আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হব? সময় এসেছে শেকল ভাঙার। এখনই


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd