মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পৌর সভার অন্তর্গত জগতপুর গ্রামে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ কাটতে গিয়ে করাতের আঘাতে একজন নিহত হয়েছে। নিহতের নাম মোঃ মোস্তাক মিয়া। সে বুড়িচং জগতপুর গ্রামের আবদুস ছামাদ মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম জগতপুর সরকারী
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবদুল বাতেন প্রকাশ আক্রাম হোসেন ট্রেন্ডারবিহীন নিজের ক্ষমতাবলে স্থানীয় কনু মিয়ার নিকট অবৈধ ভাবে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ বিক্রয় করে। গত ২ মে শনিবার সকাল ৯টায় জগতপুর গ্রামের কনু মিয়া একই গ্রামের জসিম, সুমন ও মোস্তাক মিয়াকে চুক্তি ভিত্তিক পশ্চিম জগতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ কাটতে নিয়ে যায়। ইলেক্ট্রিক করাত দিয়ে গাছ কাটার জন্য মোস্তাক গাছে উঠে। বাকি দুইজন গাছের ডালায় দড়ি বেধে নিচে দাঁড়িয়ে থাকে। গাছ কাটার এক পর্যায়ে করাতটি ছুটে এসে মোস্তাক মিয়ার গলায় আঘাত লেগে কেটে যায়।
পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়।
বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিওটি ডাক্তার মোঃ জাহিদ হাসান বলেন, করাতে আঘাতে গলার বেশিরভাগ অংশ কেটে রক্তক্ষরণ হয়ে হাসপাতালে আসার পূর্বেই মারা গিয়েছে।
বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ লুৎফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে লাশ দেখেছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সহকারী শিক্ষা অফিসার ও পশ্চিম জগতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের সাথে আলাপ আলোচনা ছাড়া নিয়ম বর্হিভূত প্রধান শিক্ষক নিজের এখতিয়ারে স্থানীয় কনু মিয়া নামের এক ব্যক্তির নিকট গাছটি বিক্রয় করেছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফওজিয়া আক্তার বলেন, আমি খবর শুনে সহকারী শিক্ষা অফিসার হেলাল উদ্দিনকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেঃ তানভীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি শুনে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে এলাকার লোক মারফত জানা যায়, রাতে গ্রাম্য শালিশের মাধ্যমে বিষয় টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য নিহতের পরিবারকে গাছ কাটার সাথে জড়িত দুইজনের উপর ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ধার্য করে ২০ হাজার টাকা তামিলের মাধ্যমে সমঝোতা করা হয়েছে বলে জানা যায়।