মোঃ শাহজাহান বাশার
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা-এর রাজাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফলাফল ঘোষণার পর নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী মনিরুজ্জামান। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ফলাফল ঘোষণার পর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর বিজয় ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গাজী মনিরুজ্জামানের ব্যক্তিগত ইমেজজনিত কারণে ভোটের ফল প্রত্যাশিত হয়নি—এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এ সময় উত্তেজনাকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা ব্যর্থ হলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা কৃষকদলের সহ-সভাপতি বেলায়েত হোসেন বলেন, “নেতাকর্মীরা অনেক পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। আমি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলাম, অথচ আমাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে—এটা দুঃখজনক।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বেলায়েত হোসেন, মাসুকুর রহমান, রাসেল, ডালিম, আসাদুন নাইম মামুন, নাছির, সিয়ামসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এ মামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে গাজী মনিরুজ্জামান বলেন, “পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ও আমার কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আত্মরক্ষার্থে ও আইনি সহায়তা পেতে মামলা করেছি।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলই এ ঘটনার মূল কারণ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ মীমাংসা না হলে স্থানীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পড়তে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।