মোঃ শাহজাহান বাশার
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)-এর মহানুভবতা, অনুপম চরিত্র ও মানবিক আদর্শ নতুন প্রজন্মের জীবনচর্চার অংশ করার আহ্বান জানিয়েছেন আওলাদে রাসূল (দ.), শাহজাদায়ে গাউছুল আজম, পীরে তরিকত আলহাজ শাহসুফী ড. সৈয়দ মুহাম্মদ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী, সাজ্জাদানশীন, মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ।
তিনি বলেছেন, মহানবী (দ.) সমগ্র মানবজাতির জন্য ন্যায়, দয়া, ক্ষমা, সহমর্মিতা, শালীনতা ও মহানুভবতার সর্বোচ্চ আদর্শ রেখে গেছেন। তাঁর জীবনাদর্শ শুধু ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একটি সুন্দর, নৈতিক ও মানবিক সমাজ গঠনের পূর্ণাঙ্গ পথনির্দেশ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) চট্টগ্রামের পাহাড়তলী কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শাহসুফী ড. সৈয়দ মুহাম্মদ সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, “মহানবী (দ.)-এর মহানুভবতা ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জীবনচর্চার অংশ করতে হবে। নবীপ্রেমকে শুধু আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁর চরিত্র ও আদর্শকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে।”
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নানা ধরনের অপসংস্কৃতি, অসুস্থ বিনোদন ও নেতিবাচক সামাজিক প্রভাব তরুণদের নৈতিক ও মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ পরিস্থিতিতে যুবসমাজকে সুস্থ জীবনবোধ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের দিকে ফিরিয়ে আনতে মহানবী (দ.)-এর জীবন ও আদর্শের সঙ্গে তাদের গভীরভাবে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)-এর চেতনা সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে যুবসমাজের মধ্যে নবীপ্রেম, নৈতিকতা, শালীনতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রধান অতিথি বলেন, যুবসমাজ একটি দেশের ভবিষ্যৎ শক্তি। তাই তাদের সামনে মহানবী (দ.)-এর আদর্শকে জীবন্ত ও অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে তুলে ধরতে হবে। নবীজির জীবন থেকে সত্যবাদিতা, আমানতদারি, বিনয়, পরোপকার, শৃঙ্খলা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা গ্রহণ করলে তরুণ প্রজন্ম একটি ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী সমাজ নির্মাণে নেতৃত্ব দিতে পারে।
তিনি বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)-এর মাহফিল, আলোচনা, নাত ও সীরাতচর্চাকে কেবল নির্দিষ্ট সময়ের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। এর মাধ্যমে নবীজির আদর্শকে নতুন প্রজন্মের চিন্তা, শিক্ষা ও জীবনাচরণের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত কেন্দ্রীয় পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আল্লামা কাজী মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন আশরাফী।
বিদেশি আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কুমুরক কাদরিয়া, চিশতিয়া ও আশরাফিয়া দরবার শরীফের পীর বায়েজিদ আশরাফী। বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন মুফতি মাওলানা এ.বি.এম. আমিনুর রশীদ। মোটিভেশনাল বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দরবারে বারিয়া শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ মোকাররম বারী।
মাহফিলে নাতে রাসূল (দ.) পরিবেশন করেন শায়ের ক্বারী মাওলানা তারেক আবেদিন কাদেরী। বক্তারা মহানবী (দ.)-এর মর্যাদা, জীবনাদর্শ, নবীপ্রেম এবং নৈতিক সমাজ গঠনে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)-এর তাৎপর্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রধান অতিথি শাহসুফী ড. সৈয়দ মুহাম্মদ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, যুবসমাজের নৈতিক উন্নতি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং বিশ্বমানবতার কল্যাণ কামনা করা হয়।