• বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
আলীকদম বাস টার্মিনাল এলাকায় টমটমের ধাক্কায় ১৩ বছরের শিশু গুরুতর আহত গোলাপগঞ্জে অস্ত্রের মহড়া: ভাইরাল ভিডিওর তিন যুবক গ্রেফতার চিতলমারীতে মাদক অভিযানে গ্রেফতার ১০ উদ্ধার ০১ মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সিলেটে আ. লীগের ঝটিকা মিছিল, ৪ জন আটক! তানোরে কৃষকের দীর্ঘশ্বাস ধান, আম, আলু, পেঁয়াজ ও রসুনে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে চাষিরা ফকিরহাটে কৃষক দল নেতা খুনের মামলায় গ্রেপ্তার-২ ভাণ্ডারিয়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার মানবাধিকার, সাংবাদিকতা ও শাহজাহান বাশারের পথচলা রাজশাহীর তানোরে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত

তানোরে কৃষকের দীর্ঘশ্বাস ধান, আম, আলু, পেঁয়াজ ও রসুনে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে চাষিরা

Reporter Name / ৪৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

হামিদুর রহমান,তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীসহ সমগ্র বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকেরা বর্তমানে চরম সংকটের মধ্যে দিন পার করছেন। উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় একের পর এক লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা। ধান, আম, আলু, পেঁয়াজ ও রসুন—প্রায় সব ধরনের প্রধান কৃষিপণ্যের বাজারমূল্য উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম থাকায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। অনেক কৃষক ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন, কেউ কেউ শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন।
বর্তমানে রাজশাহী অঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুম এবং আমের ভরা সময় চলছে। মাঠে নতুন ধান উঠছে, গাছে গাছে ঝুলছে পাকা আম। কিন্তু কৃষকের মুখে নেই হাসি। কারণ বাজারে ধান ও আমের দাম বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। উৎপাদন খরচ তুলতে না পারার শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।
ধানের দামে ধস, লোকসানের আশঙ্কায় হাজারো কৃষক
বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ (৪০ কেজি) ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। কৃষকদের দাবি, বর্তমান উৎপাদন খরচের সঙ্গে এ দাম কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়নের বিল্লী গ্রামের কৃষক সারোয়ার জাহান চলতি মৌসুমে ২০ বিঘা জমিতে ব্রি-৭৬ জাতের বোরো ধান চাষ করেছেন। মঙ্গলবার তিনি ধান কেটে মাড়াই শেষে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রির চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন ২০ বিঘা জমির ধান মেশিন দিয়ে কেটে কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রির জন্য গিয়েছিলাম। কেউ কিনতে চায়নি। পরে একজন ব্যবসায়ী ৮০০ টাকা মণ দরে ধান কিনতে রাজি হয়। এ দামে ধান বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই উঠবে না। আমার অন্তত ৫০ হাজার টাকা লোকসান হবে।”
সারোয়ার জাহানের মতো একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, পবা, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাজারো কৃষক। তারা বলছেন, সেচ, সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় ধান উৎপাদনের ব্যয়ও বেড়েছে। অথচ বাজারে ন্যায্যমূল্য না থাকায় কৃষকরা চরম আর্থিক সংকটে পড়ছেন। রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ দেশের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদনকারী অঞ্চল। কিন্তু চলতি মৌসুমে আমের বাজারে ভয়াবহ ধস নেমেছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
বাগান মালিকদের অভিযোগ, গত এক দশকের মধ্যে এবার আমের দাম সবচেয়ে কম। বাজারে পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় অনেক বাগানে পাকা আম গাছেই নষ্ট হচ্ছে।
বর্তমানে বিভিন্ন জাতের আম প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ বাগান পরিচর্যা, সেচ, কীটনাশক, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় বিবেচনায় এ দামে উৎপাদন খরচও উঠছে না।
আমচাষীরা বলছেন, চলতি মৌসুমে যদি বাজার পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে অনেক বাগান মালিককে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
আলু চাষে লাখ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা
শুধু ধান বা আম নয়, গত এক বছর ধরে আলুচাষিরাও চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছেন।
তানোর উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের কৃষক মনজুর রহমান চলতি মৌসুমে ৩০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। বর্তমানে তার আলু হিমাগারে সংরক্ষিত রয়েছে।
বর্তমানে আলুর বাজার প্রতি কেজি মাত্র ৮ টাকা। অথচ উৎপাদন খরচ ও হিমাগার ভাড়া মিলিয়ে আমার প্রতি কেজিতে খরচ হয়েছে প্রায় ১৯ টাকা। দাম না বাড়লে প্রায় ২০ লাখ টাকা লোকসান হবে।”
কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরও আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বহু কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। অনেকেই ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। চলতি বছরেও একই পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পেঁয়াজ ও রসুন চাষেও হতাশা
বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় পেঁয়াজ ও রসুনের বাজার।
বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় এবং রসুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। কৃষকদের দাবি, এ দামে উৎপাদন খরচ উঠানো সম্ভব নয়।
তানোর উপজেলার পাঁচন্দর গ্রামের দুই রসুন চাষি সাদেক ও তার সহকর্মীরা জানান, গত বছর দুই বিঘা জমিতে রসুন চাষ করে লোকসানে পড়েছিলেন। এবারও দুই বিঘা জমিতে রসুন আবাদ করেছেন, কিন্তু বাজারমূল্য কম থাকায় রসুন বিক্রি না করে বাড়িতে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।
তারা বলেন,গত বছরের মতো দাম পেলে আগামীতে আর রসুন চাষ করব না। দেশের কৃষক রসুন উৎপাদন করলেও বিদেশি রসুন আমদানির কারণে আমরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না।রসুন চাষিদের মতে, দেশে উৎপাদিত রসুন দিয়েই অভ্যন্তরীণ চাহিদার বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব। কিন্তু আমদানিনির্ভর নীতির কারণে স্থানীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, একের পর এক ফসলে লোকসান হওয়ায় তারা ব্যাংক ও এনজিও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। অনেকের সুদের চাপ বেড়েছে। কেউ কেউ ঋণের বোঝা সামলাতে জমি বিক্রির চিন্তাও করছেন।
তারা বলছেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকরাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছেন। অথচ উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষি পেশা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় ধান ব্যবসায়ীরা বলছেন, জুন মাসে ব্যাংক ক্লোজিং থাকায় অনেক চালকল মালিক ধান ক্রয়ে ধীরগতি অবলম্বন করছেন। ফলে বাজারে ধানের চাহিদা কমে গেছে এবং দামও নিম্নমুখী।
তাদের দাবি, জুলাই মাস থেকে ধানের বাজারে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে কৃষকদের মতে, প্রতি বছর একই ধরনের অজুহাত দেখানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাজার ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকারি ক্রয় এবং আমদানি নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, কৃষকেরা যদি ধারাবাহিকভাবে লোকসানের মুখে পড়তে থাকেন, তাহলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন কমে যেতে পারে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের একটাই দাবি—তাদের উৎপাদিত পণ্য


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd