শিহাব মিয়া, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ে জন্ম নেওয়া মানুষের জীবন যেন আজন্ম এক ভুলের গল্প—এমনটাই বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বছরের পর বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আগাম বন্যা, অতিবৃষ্টি, বাঁধ ভাঙন আর ফসলহানির সঙ্গে যুদ্ধ করেই দিন পার করছেন হাওরপাড়ের মানুষ।
প্রতিবছর বোরো মৌসুম এলেই কৃষকদের চোখে স্বপ্ন জাগে। কিন্তু সেই স্বপ্ন অনেক সময়ই ভেঙে যায় আগাম বৃষ্টি বা উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে। চলতি মৌসুমেও টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গুয়ার হাওরের বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে কাঁচা ধান তলিয়ে গেছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
টাঙ্গুয়ার হাওরের পশ্চিম তীরবর্তী রংচী গ্রামের কৃষক বাছির আহমেদ জানান, হাওর অঞ্চলে জন্ম নেওয়া মানেই অনিশ্চয়তার জীবন। কখন ফসল পানিতে তলিয়ে যাবে, কখন বাঁধ ভেঙে যাবে—এই শঙ্কা নিয়েই আমাদের দিন কাটে। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেন, কিন্তু ফসল নষ্ট হলে সেই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়।
স্থানীয় কৃষক জামিনুর ইসলাম বলেন, “হাওরে জন্ম নেওয়াটাই যেন আমাদের আজন্ম ভুল। সারা বছর কষ্ট করে চাষ করি, আর এক রাতের বৃষ্টি সব শেষ করে দেয়।”
এদিকে, আগাম বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে ফসল রক্ষায় দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রতিবছরের এই ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
হাওরপাড়ের মানুষের জীবন সংগ্রাম যেন শেষ হওয়ার নয়। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করেই তাদের বেঁচে থাকা—এটাই যেন টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের মানুষের নিয়তি।