মোঃ শাহজাহান বাশার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) নির্বাচনী মাঠে নতুন উন্মাদনার ছাপ ফেলেছিল। শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের কৃতি সন্তান জনাব মো: জসিম উদ্দিন আবারও নির্বাচিত হয়েছেন। আগামীকাল তাঁর শপথ গ্রহণ, চারপাশে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে গেছে। কিন্তু হঠাৎই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে—“এই সংসদ কতদিন স্থায়ী হতে পারবে?”
শশীদল ইউনিয়নের জনগণ এই প্রশ্নের সঙ্গে পরিচিত। কারণ, ইতিহাস প্রমাণ করেছে, এই ইউনিয়ন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কখনোই সংসদের পূর্ণ মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি।
মেজর আব্দুল গনি (১৯৫৪) ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাগাইশ গ্রামের সন্তান মেজর আব্দুল গনি ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদের নির্বাচনে জয়ী হন। কিন্তু মাত্র তিন বছর পর ১৯৫৭ সালের নভেম্বরে পশ্চিম জার্মানিতে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থিত থাকা অবস্থায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু ঘটে। সংসদ তার মৃত্যুর কারণে পূর্ণ মেয়াদ পায়নি, এবং উপনির্বাচনের মাধ্যমে আসন পূর্ণ করা হয়।
মজিবুর রহমান মজু (১৯৯৬) ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শশীদল গ্রামের জনাব মজিবুর রহমান মজু বিজয়ী হন। সেই সংসদ ১৯ মার্চ অধিবেশন শুরু করলেও মাত্র ১২ দিন পর, ৩০ মার্চ সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
এম এ জাহের (২০২৪) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭ই জানুয়ারি ২০২৪ কুমিল্লা-৫ আসন থেকে শশীদল ইউনিয়নের এম এ জাহের নির্বাচিত হন। তবে ২০২৪ সালের ৬ই আগস্ট রাজনৈতিক উত্থান-পতনের কারণে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। ফলে সাত মাসও পূর্ণ হয়নি।
২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি শশীদল ইউনিয়নের জনাব মো: জসিম উদ্দিন নির্বাচিত হয়েছেন। ইতিহাসের এই ধারাবাহিকতা এবং ‘অসমাপ্ত সংসদ’ তত্ত্ব মনে প্রশ্ন জাগাচ্ছে—এবার কি চাকা ঘুরবে, নাকি পূর্বসূরিদের মতো এবারও সংসদ পূর্ণ মেয়াদে চলতে পারবে না?
ব্যক্তিগতভাবে আমরা এসব রহস্যময় তত্ত্বে বিশ্বাসী নই, তবে ইতিহাসের এই ধারাবাহিকতা চিন্তাভাবনার উদ্রেক করে। দিনের শেষে আমরা জসিম উদ্দিনকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাই। দোয়া করি, তিনি দীর্ঘজীবী হোন, এবং তাঁর নেতৃত্বে শশীদল ইউনিয়ন দেখুক একটি পূর্ণাঙ্গ, সফল ও স্থায়ী সংসদীয় মেয়াদ।