জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুর:
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী সাচিয়া বাজার ও এর আশপাশের এলাকায় তীব্র নদীভাঙনে সবকিছু মধুমতী নদীর গর্ভে বিলীন হতে বসেছে। গত ৪০ বছর ধরে চলা এই ভাঙনে গত ১০ আগস্ট নতুন করে তাণ্ডব শুরু হয়। এতে অন্তত ৭টি দোকান ও বসতঘর নিমেষেই নদীতে তলিয়ে গেছে। একের পর এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতভিটা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মধুমতী নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে একের পর এক স্থাপনা। ইতোমধ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি নদীগর্ভে চলে গেছে। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী এই বাজারটির মসজিদ ও মন্দিরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এখন চরম হুমকির মুখে, যা যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
ভাঙনের তাণ্ডবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বহু পরিবার। সহায়-সম্বল ও ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন, আবার কেউ কেউ মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে ভাড়া বাসায় উঠছেন। নদীকূলের মানুষের হাহাকার ও আতঙ্কে পুরো এলাকাজুড়ে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
৭০ বছর বয়সী বিজলী বিশ্বাস জীবনের শেষ বয়সে এসে সরকারের কাছে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই চান। তার দাবি, সরকার উদ্যোগ নিলে বেড়িবাঁধ বা অন্য কোনো উপায়ে এ ভাঙন বন্ধ করা সম্ভব।
প্রায় ৮০ ছুঁইছুঁই রূপা রানী দাস ছোটবেলায় বিয়ে হয়ে এ বাজারে স্বামীর সংসারে এসেছিলেন। নদীভাঙনের কারণে তার স্বামীর সমাধির শেষ চিহ্নটুকুও আজ আর নেই; হারিয়েছেন ৭টি ভিটা। বর্তমানে অন্যের ভাড়া বাসায় থাকা রূপা রানী দাস নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় চরম বিষণ্নতায় দিন কাটাচ্ছেন।
এক সময়ের বড় ব্যবসায়ী কৃপা বিশ্বাস মধুমতীর গ্রাসে আজ নিঃস্ব। তার মতে, শতবছরের এই হাটটি টিকে থাকলে শত শত মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে, তাই দ্রুত ভাঙন রোধ করা জরুরি।
এমন নিঃস্ব হওয়ার গল্পের শেষ নেই নদীপাড়ের মানুষের।
ক্ষতিগ্রস্ত ও স্থানীয়দের দাবি—অস্থায়ী জিও ব্যাগ ফেলে এই ভয়াবহ নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। মধুমতী নদীর হাত থেকে সাচিয়া বাজার, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং বসতভিটা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।
পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাশেদ খান জানান, ভাঙনের খবর পেয়ে আমাদের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের ভিত্তিতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তবে ব্লক বা বেড়িবাঁধের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করব।