• শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
ব্রাহ্মণপাড়ায় মাদক সেবনের দায়ে ৩ জনকে কারাদণ্ড বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি একজন খলনায়ক থাকতেই হবে? নাগেশ্বরীতে মাদকমুক্ত সমাজ গরতে গিরার পাড় তরুণ সংঘের কঠিন হুশিয়ারি সিলেটে পুলিশের বড় ধাক্কা: বিশেষ ক্ষমতাবলে সাবেক ২ ওসিসহ ৫৬ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে পরকীয়ায় জড়িয়ে মা/দ/কা/স/ক্ত, আবিদের ঝুলন্ত ম/রা/দে/হ উদ্ধার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ -এর নেতৃবৃন্দের নাগেশ্বরী থানার ওসির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ আমার বাপেরে ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে আর আমরা দুই ভাইয়ে ওরে কোপাইছি মোল্লাহাটে থানা পুলিশের মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান ​নাগেশ্বরীতে ​হাউরিভিটা মসজিদের উন্নয়ন কাজে হাজী সোহেলের ২০ বস্তা সিমেন্ট অনুদান তানোর গোল্লাপাড়া বাজারে ‘আবেদা এন্টারপ্রাইজ’-এর শুভ উদ্বোধন

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি একজন খলনায়ক থাকতেই হবে?

Reporter Name / ২৫ Time View
Update : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমরা কি এমন এক সংস্কৃতির বন্দি হয়ে আছি, যেখানে একজনকে মহানায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে অন্য কাউকে খলনায়ক বানাতেই হবে? প্রশ্নটি শুধু রাজনৈতিক নয়; এটি আমাদের ইতিহাসবোধ, রাষ্ট্রচিন্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতারও প্রশ্ন।

আমি একজন বাঙালি হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করি। আমার কাছে জাতীয়তাবাদের প্রথম ও প্রধান অর্থ—বাংলাদেশ। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানুষের মর্যাদা, ভাষা, সংস্কৃতি, আত্মপরিচয়, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দেওয়া। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসকে দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়—একটি জাতিরাষ্ট্র কখনো একজন মানুষের হাতে, একটি দিনে কিংবা একটি দলের একক প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে না। ইতিহাস তৈরি হয় বহু প্রজন্মের রাজনৈতিক সংগ্রাম, নেতৃত্ব, মতপার্থক্য, আত্মত্যাগ, রক্ত, সাহস এবং সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে।

১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর নির্বাচন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—এসব ছিল একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক অভিযাত্রার পরস্পর-সম্পর্কিত অধ্যায়। প্রতিটি অধ্যায়ের পেছনে ছিল অসংখ্য মানুষের অবদান। এই ইতিহাসে শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ নিজ সময় ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাঙালির অধিকার, আত্মপরিচয় ও রাজনৈতিক চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

স্বাধীনতার চূড়ান্ত পর্বে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠনে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানের অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একইভাবে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক ইতিহাসে জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী, সেক্টর কমান্ডারগণ এবং অসংখ্য বীর মুক্তিযোদ্ধার ভূমিকা অনস্বীকার্য। বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে তাঁর ভূমিকা এবং পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবস্থানও ইতিহাসের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কাউকে স্মরণ করতে গিয়ে অন্য কাউকে মুছে ফেলতে হবে কেন? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক অবদান স্বীকার করতে জিয়াউর রহমানকে ছোট করার প্রয়োজন নেই। আবার জিয়াউর রহমানের ভূমিকা স্বীকার করতে বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করারও কোনো যুক্তি নেই। তাজউদ্দীন আহমদকে সম্মান করতে গিয়ে জাতীয় চার নেতার অন্য সদস্যদের বিস্মৃত হওয়ার প্রয়োজন নেই। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সম্মান করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক নেতৃত্ব কিংবা সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে আড়াল করারও কোনো কারণ নেই। কারণ ইতিহাস কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। জাতীয় নেতারাও কোনো দলের একক সম্পদ নন। তাঁরা তাঁদের অবদান, সীমাবদ্ধতা, সাফল্য ও বিতর্কসহ বাংলাদেশের বৃহত্তর ইতিহাসের অংশ।

আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বড় দুর্বলতা হলো—আমরা ইতিহাসকে প্রায়ই সাদা ও কালোর সরল বিভাজনে দেখতে চাই। কেউ সম্পূর্ণ ভালো, কেউ সম্পূর্ণ খারাপ। কেউ কেবল মহানায়ক, অন্য কেউ কেবল খলনায়ক। কিন্তু রাষ্ট্রের ইতিহাস এত সরল নয়। একজন রাজনৈতিক নেতার অবদান স্বীকার করা মানেই তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হওয়া নয়। একইভাবে কোনো নেতার রাজনৈতিক ভুল, বিতর্ক কিংবা সীমাবদ্ধতার সমালোচনা করা মানেই তাঁর সব অবদান অস্বীকার করা নয়। ইতিহাসের প্রতি ন্যায়বিচার হলো—যার যে অবদান, তাকে সেই জায়গায় স্বীকার করা; যার যে ভুল, তাকে সেই জায়গায় ইতিহাসের আলোচনায় রাখা। এটাই পরিণত জাতির ইতিহাসচর্চা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার ও আত্মপরিচয়ের সংগ্রামের অন্যতম প্রধান নেতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে তাঁর অবস্থান তাই অনস্বীকার্য ও ঐতিহাসিক। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক পর্ব এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা থাকবে। তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারার সঙ্গে যুক্ত। দুই নেতার রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্রচিন্তা ও উত্তরাধিকার নিয়ে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু মতপার্থক্যকে ইতিহাস মুছে ফেলার অস্ত্র বানানো কোনো সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির লক্ষণ হতে পারে না। বাংলাদেশের ইতিহাসকে বুঝতে হলে আমাদের একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে বুঝতে হবে, জিয়াউর রহমানকে বুঝতে হবে এবং তাঁদের সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতাকেও বুঝতে হবে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনীতি এবং জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার বিকাশে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকা বাংলাদেশের সমকালীন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর রাজনৈতিক জীবন নিয়ে যেমন গভীর সমর্থন রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রবল সমালোচনা ও বিতর্ক। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক সমাজে কোনো নেতার রাজনৈতিক ভূমিকা মূল্যায়নের অর্থ তাঁকে দেবী বা দানব বানানো নয়। তাঁর রাজনৈতিক অবদান, গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনে ভূমিকা, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং বিতর্ক—সবকিছুকেই ইতিহাসের আলোচনায় জায়গা দিতে হবে। একজন নেতার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর অর্থ তাঁর সব সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা নয়। আবার তাঁর সমালোচনা করার অর্থ তাঁর রাজনৈতিক অস্তিত্বকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়া নয়। এই ভারসাম্যটাই গণতান্ত্রিক ইতিহাসচর্চার সৌন্দর্য।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জাতীয় নেতাদের দলীয় পরিচয়ের দেয়ালের মধ্যে বন্দি করে রাখার প্রবণতা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এক পক্ষ একজনকে নিজেদের একচ্ছত্র সম্পদ মনে করেছে; অন্য পক্ষ আরেকজনকে। ফলে জাতীয় ইতিহাস হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। বাংলাদেশের ইতিহাসে যার যতটুকু অবদান, তা যথাযথভাবে স্বীকার করতে হবে। একই সঙ্গে ইতিহাসের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো নিয়েও গবেষণা, তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে আলোচনা করতে হবে। ইতিহাসকে আদালত বানিয়ে প্রতিপক্ষকে সাজা দেওয়ার সংস্কৃতি নয়; ইতিহাসকে গবেষণার ক্ষেত্র বানানোই আধুনিক রাষ্ট্রের পথ।

জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে। এই পরিবর্তনের অন্যতম বড় শিক্ষা হিসেবে যদি কিছু গ্রহণ করতে হয়, তা হতে পারে—রাষ্ট্র ও জাতীয় ইতিহাসকে কোনো একক রাজনৈতিক বয়ানের মধ্যে আবদ্ধ না রাখা। এর পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক বিচার সময়ই করবে। তবে একটি বিষয় আজই বলা যায়—নতুন বাংলাদেশ যদি সত্যিই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায়, তাহলে তাকে অতীতের প্রতিহিংসা, ব্যক্তিপূজা এবং ইতিহাসকে দলীয় সম্পত্তি বানানোর প্রবণতা অতিক্রম করতে হবে।

নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের এমন একটি ইতিহাস তুলে ধরতে হবে যেখানে বঙ্গবন্ধু আছেন, জিয়াউর রহমান আছেন; তাজউদ্দীন আহমদ আছেন, জাতীয় চার নেতার অন্য সদস্যরা আছেন; ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী ও শেরেবাংলা আছেন; ওসমানী, সেক্টর কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধারা আছেন; আর আছেন কোটি কোটি সাধারণ মানুষ, যাঁদের ত্যাগ ছাড়া বাংলাদেশের জন্ম সম্ভব হতো না।

জাতীয় ঐক্য মানে সবাই একই রাজনৈতিক দল করবে—এমন নয়। জাতীয় ঐক্য মানে সবাই একই নেতাকে ভালোবাসবে—এমনও নয়। জাতীয় ঐক্য মানে হলো—মতভেদ থাকা সত্ত্বেও দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, মর্যাদা, গণতন্ত্র এবং জাতীয় স্বার্থের মৌলিক প্রশ্নে আমরা একে অপরকে শত্রু হিসেবে দেখব না।

আমরা বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করতে পারি, আবার তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করতে পারি। আমরা জিয়াউর রহমানের ভূমিকা স্বীকার করতে পারি, আবার তাঁর সময়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নও তুলতে পারি। আমরা খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ভূমিকা স্মরণ করতে পারি, আবার তাঁর সরকারের নীতি বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্নমতও রাখতে পারি। এটাই গণতন্ত্র। এটাই পরিণত রাজনৈতিক সংস্কৃতি।

১৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর বেদনার একটি দিন। এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। একই তারিখে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এই দুই ঐতিহাসিক বাস্তবতা একই তারিখকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্মৃতিতে একটি বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।

একজন বাঙালি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করা যেমন স্বাভাবিক, তেমনি বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনও তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও জীবনের প্রেক্ষাপটে স্মরণ করা স্বাভাবিক। জন্ম ও মৃত্যু কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। একই দিনে একজনের জন্মবার্ষিকী এবং অন্যজনের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে—এই বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে যদি আমরা আবারও পরস্পরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াই, তবে ইতিহাস থেকে আমরা কী শিখলাম?

বরং ১৫ আগস্ট আমাদের জন্য হতে পারে স্মরণ, শোক, প্রার্থনা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার একটি দিন। একজনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে অন্যজনের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো যেমন অপ্রয়োজনীয়, তেমনি একজনকে স্মরণ করতে গিয়ে অন্যজনের অস্তিত্ব ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার অস্বীকার করাও ইতিহাসের প্রতি সুবিচার নয়।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন আরেকজন খলনায়ক খুঁজে বের করা নয়; বরং নিজেদের ইতিহাসকে পরিণত দৃষ্টিতে দেখা। আমাদের সন্তানদের এমন ইতিহাস শেখাতে হবে যেখানে কোনো নেতা দেবতা নন, আবার কোনো নেতা ইতিহাসের বাইরে নন। যেখানে প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনা থাকবে, শ্রদ্ধার পাশাপাশি গবেষণা থাকবে, আবেগের পাশাপাশি যুক্তি থাকবে।

কাউকে মুছে দিয়ে কাউকে প্রতিষ্ঠা নয়। বরং যার যে অবদান, তাকে তাঁর প্রাপ্য জায়গায় রেখে বাংলাদেশের ইতিহাসকে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করা।

কারণ বাংলাদেশ কোনো এক ব্যক্তির নয়, কোনো এক দলের নয়, কোনো এক মতাদর্শের একচেটিয়া সম্পত্তিও নয়। বাংলাদেশ তার সব নাগরিকের। এই দেশের ইতিহাসও তাই সবার।

বাঙালি জাতীয়তাবাদের গভীরতম শিক্ষা যদি সত্যিই গ্রহণ করতে চাই, তাহলে তার কেন্দ্রে থাকতে হবে বাংলাদেশ—তার মানুষ, তার স্বাধীনতা, তার সার্বভৌমত্ব, তার মর্যাদা এবং তার ভবিষ্যৎ।

আজ ১৫ আগস্ট। একদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী—জাতির ইতিহাসের এক গভীর শোকের অধ্যায়। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন—বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত একটি দিন।

দুজনই আজ শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, তাঁদের অবদান, তাঁদের সিদ্ধান্ত, তাঁদের সাফল্য ও তাঁদের বিতর্ক—সবকিছুই বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।

তাই আজকের দিনটি বিদ্বেষের নয়। আজকের দিনটি হতে পারে স্মরণের, শ্রদ্ধার, শোকের, প্রার্থনার এবং সবচেয়ে বেশি—রাজনৈতিক সহনশীলতার।

হয়তো এখান থেকেই আমরা একটি নতুন বাংলাদেশকে দেখতে শুরু করতে পারি—কাউকে মুছে দিয়ে কাউকে প্রতিষ্ঠা নয়; ইতিহাসকে ভাগ করে নয়, সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করে।

কারণ শেষ পর্যন্ত আমাদের পরিচয় কোনো একক নেতার নামে নয়। আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়—আমরা বাংলাদেশি, এবং বাংলাদেশ আমাদের সবার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd