হামিদুর রহমান রাজশাহী জেলাপ্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়নের চকরাম গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী ও শাশুড়িকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মেহেদী হাসান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মেহেদী হাসান, তার মা ও বড় ভাই নাজমুলের বিরুদ্ধে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে চকরাম গ্রামের চান মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক নীলুফা বেগমের মেয়ে জিসা খাতুনকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে প্রায় এক বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মেহেদী হাসান তার স্ত্রী জিসা খাতুনকে প্রায়ই মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। স্বামীর নির্যাতনের কথা দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রকাশ না করে জিসা খাতুন সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ১ নভেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মেহেদী হাসান নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে এসে কোনো কারণ ছাড়াই স্ত্রী জিসা খাতুনকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে জিসা খাতুন তার মাকে বিষয়টি খুলে জানান।
পরদিন ২ নভেম্বর মেয়েকে দেখতে তার মা নীলুফা বেগম ওই বাড়িতে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মেয়ের বাড়িতে শাশুড়িকে দেখতে পেয়ে মেহেদী হাসান অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে নীলুফা বেগমের হাতে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হলে মেহেদী হাসানের মা ও বড় ভাই নাজমুল ঘটনাস্থলে এসে নীলুফা বেগমকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে মারধর করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নীলুফা বেগমের দাবি, পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে তিনি নিজের জীবন রক্ষার্থে কোনোভাবে ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় চলে আসেন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তিনি ওই স্থান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কোনো উপায় না পেয়ে ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় নীলুফা বেগম তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “অভিযোগপত্র পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।