হামিদুর রহমান, তানোর (রাজশাহী)প্রতিনিধি :
রাজশাহীর তানোরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক-এর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তানোর উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বরেন্দ্র ক্যাবল ভবন সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন— সাবেক তানোর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সরনজাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক খান।তানোর উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা আমিনুল ইসলাম।তানোর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক একরাম আলী মোল্লা
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন তোফা।মুন্ডুমালা পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আতাউর রহমান
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম মোর্তূজা।পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহীন সরকার রন্জুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা
দোয়া মাহফিলে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ব্যারিস্টার আমিনুল হক রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসন থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর মন্ত্রিসভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
দায়িত্ব পালনকালে তিনি দক্ষতা, সততা ও কর্মনিষ্ঠার জন্য সর্বমহলে প্রশংসিত হন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর একজন স্বনামধন্য সিনিয়র আইনজীবী হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন।
তিনি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলা-এর কেল্লাবারুইপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ফহিম উদ্দিন বিশ্বাস এবং মাতা আনোয়ারা বেগম।
শিক্ষাজীবনে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শেষ সময় পর্যন্ত সক্রিয়
মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, নেতৃত্বগুণ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা আজও দলীয় নেতাকর্মীদের অনুপ্রেরণা জোগায়।
ব্যারিস্টার আমিনুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতাকর্মীরা।