মোঃ শাহজাহান বাশার
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুসকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা এবং এটিকে ‘গোয়েন্দা ব্যর্থতা’ হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগ এনে জুলকারনাইন সায়ের কর্তৃক প্রচারিত একটি প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মাইজভান্ডারী আশেকানদের একটি পক্ষ।
প্রতিবাদী বক্তব্যে বলা হয়, রাজধানীতে মাইজভান্ডারী আশেকানদের ব্যাপক উপস্থিতি ও গণজোয়ার দেখে কিছু কূপমণ্ডূক ও সংকীর্ণমনা মানুষের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে জুলকারনাইন সায়েরের প্রচারিত প্রতিবেদনে জশনে জুলুসকে যেভাবে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্রতিবাদে আরও বলা হয়, শত শত বছর ধরে মাইজভান্ডারী দরবার শরীফ সুফিবাদের অহিংস, প্রেম, মানবতা ও পরমতসহিষ্ণুতার বাণী প্রচার করে আসছে। এই শাশ্বত ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে মনগড়া বয়ান তৈরি করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
বক্তব্যে দাবি করা হয়, ১৯৮৮ সাল থেকে রাজধানীতে অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশ ও মর্যাদার সঙ্গে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হয়ে আসছে। ড. শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীর দিকনির্দেশনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে সুফিবাদী প্রেম, আধ্যাত্মিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবাদকারীরা বলেন, জশনে জুলুসকে কোনো সংকীর্ণ রাজনৈতিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা উচিত নয়। তাদের দাবি, এটি মূলত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের একটি ধর্মীয় আয়োজন।
প্রতিবাদী বক্তব্যে আরও বলা হয়, সত্যকে আড়াল করতে কোনো ধরনের অপপ্রচার চালানো হলেও সুফিবাদের শান্তিময় ও মানবিক বার্তা থামিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। সত্যের আলো একসময় সব বিভ্রান্তির কুয়াশা দূর করবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
প্রতিবাদকারীদের ভাষ্য, “সুফিবাদের পথ শান্তির পথ, ভালোবাসার পথ এবং মানবতার পথ। কোনো অপপ্রচার এই শান্তিময় ধারাকে রুদ্ধ করতে পারবে না।”
তবে জুলকারনাইন সায়েরের প্রতিবেদন বা তার বক্তব্যের বিষয়ে তার পক্ষের কোনো বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।