মোঃ শাহজাহান বাশার
আজ ২৫ আগস্ট, রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র বাহিনীর নিপীড়ন ও সহিংসতার মুখে প্রাণ বাঁচাতে নিজ জন্মভূমি ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করেন লাখ লাখ রোহিঙ্গা। তাদের বড় একটি অংশ কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয়।
রোহিঙ্গাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ওই সময় রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। বহু গ্রাম আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হন। অনেকে যৌন সহিংসতার শিকার হন। ঘরবাড়ি, মসজিদ, বিদ্যালয়, বাজার ও জীবিকার উৎস ধ্বংস হয়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা জঙ্গল, পাহাড়, নদী ও সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
এ উপলক্ষে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আজ মঙ্গলবার নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস পালন করা হবে। টেকনাফের নয়াপাড়া, শালবাগান, ২১ ও ২২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আলোচনা সভা, শোডাউনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
২২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হেড মাঝি মো. রফিক ও ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হেড মাঝিজামাল হোসেন মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
কর্মসূচিতে ২০১৭ সালের সহিংসতার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানাতে পারেন রোহিঙ্গারা।
তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।