মোঃ শাহজাহান বাশার
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
রাষ্ট্র একটি বিস্ময়কর ধারণা। এটি যেমন আমাদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের প্রতীক, তেমনি কখনও কখনও দুঃশাসন, বৈষম্য আর হতাশারও প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। রাষ্ট্র কেবল একটি ভৌগোলিক সীমারেখা নয়, বরং এটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সম্মিলিত প্রতিচ্ছবি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এই রাষ্ট্র কি সত্যিই জনগণের জন্য, নাকি কেবল ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য পরিচালিত হচ্ছে?
আজকের বাংলাদেশে রাষ্ট্রের ভূমিকা ও চরিত্র নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা যায়। সংবিধানে লেখা আছে, রাষ্ট্রের মূল মালিক জনগণ। কিন্তু বাস্তবে আমরা কি দেখতে পাচ্ছি? জনগণ কি তাদের মৌলিক অধিকার পাচ্ছে—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা? নাকি ক্ষমতার আসনে বসে কিছু সুবিধাভোগী শ্রেণি রাষ্ট্রকে নিজেদের সম্পদ-সংগ্রহের যন্ত্রে পরিণত করেছে?
রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি হলো জনগণ। যদি জনগণকে অবহেলা করা হয়, তাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়, তবে সেই রাষ্ট্র কখনোই টেকসই হতে পারে না। রাষ্ট্র তখন দুর্বল হয়, ভেতর থেকে ভেঙে পড়ে। অন্যদিকে, যখন রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণে কাজ করে—শিক্ষিত করে, কর্মসংস্থান দেয়, সুবিচার নিশ্চিত করে—তখনই রাষ্ট্র পরিণত হয় প্রকৃত অর্থে একটি “জনগণের রাষ্ট্রে।”
আমাদের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের মূল দর্শন ছিল গণতন্ত্র, সমতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। অথচ স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও আমরা দেখতে পাই দুর্নীতি, বৈষম্য, দমননীতি আর আইনের অপব্যবহার। রাষ্ট্রের কাঠামো যেন জনগণের হাতে না থেকে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কব্জায় চলে গেছে। ফলে জনগণ ক্রমেই রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
তবে আশা হারানোর কারণ নেই। জনগণই রাষ্ট্রের প্রাণ, জনগণই তার শক্তি। যতদিন এই দেশের মানুষ বেঁচে আছে, ততদিন রাষ্ট্রের স্বপ্নও বেঁচে থাকবে। প্রয়োজন কেবল সৎ নেতৃত্ব, জবাবদিহিতা ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। রাষ্ট্র যদি সত্যিই জনগণের জন্য কাজ করে, তবে এ দেশ হতে পারে উন্নত, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।