কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা-র সীমান্তবর্তী এলাকায় ঈদের দিনেও মাদক বেচাকেনা বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন যুবকদের উদ্যোগে গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী ও এক মাদকসেবীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন-এর মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্বুদ্ধ হয়ে এলাকার কিছু যুবক নিজ উদ্যোগে মাদক প্রতিরোধে তৎপরতা শুরু করেন। ঈদের দিন সন্ধ্যা থেকে তারা কোদালিয়া গ্রামে নজরদারি চালান। একপর্যায়ে একটি বাড়িতে মাদক বেচাকেনার সময় তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে বিষয়টি বুড়িচং থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমানকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে এসআই মিজানুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে মঞ্জুল আলমের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ১ কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এর আগে যুবকদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ৫ গ্রাম গাঁজাও জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক তিনজনের মধ্যে দুইজনকে মাদক বিক্রেতা এবং একজনকে ক্রেতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আটককৃতরা হলেন— কোদালিয়া গ্রামের মৃত জজু মিয়ার ছেলে মঞ্জুল আলম (৪৫), আজ্ঞাপুর গ্রামের আব্দুর খালেক মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম (৩২) এবং একই গ্রামের মৃত মোসলেম মিয়ার ছেলে এমাদুল (৩৫)।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্র অভিযোগ করে বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে একটি চক্র জড়িত। সচেতন মহল ও যুবসমাজের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করার পরও তারা ব্যবসা চালিয়ে আসছিল বলে দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
বুড়িচং থানার ওসি লুৎফুর রহমান জানান, “উদ্ধারকৃত গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। আটক তিনজনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে— আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া কতটুকু সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।