নাগেশ্বরী উপজেলা প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের দিগদারী গ্রামে জরাজীর্ণ একটি ছাপরা ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন প্রায় ৯৯ বছর বয়সী সাজিগন বেওয়া ও তাঁর ৬২ বছর বয়সী মেয়ে ছকিনা বেওয়া। দারিদ্র্য, স্বজনদের অবহেলা ও নানা সংকটের মধ্যে বর্তমানে একে অপরের ওপর নির্ভর করেই দিন পার করছেন অসহায় মা-মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে স্বামী ওমর আলীকে হারান সাজিগন বেওয়া। এরপর জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে ভিক্ষা করে চার সন্তানকে বড় করেন তিনি। দীর্ঘ জীবনের শেষপ্রান্তে এসে বয়সের ভারে এখন নিজে ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। ফলে মায়ের খাবারের জোগান দিতে ভিক্ষার থালা হাতে পথে নামতে হয়েছে মেয়ে ছকিনা বেওয়াকে।
ছকিনা বেওয়ার স্বামীও বহু বছর আগে নিখোঁজ হন। বর্তমানে আশ্রয়ের অভাবে বড় মেয়ের জামাইয়ের জায়গায় একটি ভাঙা ছাপরা ঘরে মা-মেয়ের বসবাস। তাদের থাকার ঘরে নেই বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। কখনো খাবার জোটে, আবার কখনো অনাহারেই দিন কাটাতে হয় তাদের।
ছকিনা বেওয়া বলেন, “আগে মা ভিক্ষা করি আমাকে খাওয়াইছে, এখন আমি ভিক্ষা করি মাকে খাওয়াচ্ছি। পাইলে খাই, না পাইলে না খাইয়া থাকি।”
ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম বলেন, বয়স্ক ও বিধবা ভাতার সামান্য অর্থ দিয়ে তাদের সংসার চালানো সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে জীবনের শেষ সময়ে মা-মেয়েটি কিছুটা
স্বস্তিতে থাকতে পারবেন।
স্থানীয়দের দাবি, অসহায় এই মা-মেয়ের জন্য দ্রুত একটি নিরাপদ বাসস্থান, নিয়মিত খাবার, সুপেয় পানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এ অবস্থায় সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি অসহায় মা-মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের জীবনের শেষ দিনগুলো যেন অন্তত নিরাপদ ও স্বস্তিতে কাটে—এটাই এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।