মারুফ হাসান
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক আবেগঘন স্মরণসভা ও গণজমায়েত। সন্ধ্যা থেকেই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কালো পোশাক, জাতীয় পতাকা এবং শহীদদের স্মরণে নানা স্লোগানে প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় শোক, শ্রদ্ধা ও প্রত্যয়ের পরিবেশ।
স্মরণসভায় বক্তারা জুলাই আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ (মুগ্ধ)-সহ সকল শহীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত চেতনা কখনো মুছে ফেলা যাবে না।
বক্তারা আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ, দমন-পীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে সংগ্রামে অসংখ্য তরুণ জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই আন্দোলনের মূল চেতনা বাস্তবায়ন করাই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান। তারা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ কোনোদিন বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। নতুন প্রজন্ম শহীদদের আদর্শ ধারণ করে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে কাজ করবে বলেও তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্মরণসভা শেষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিত সবাই শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং সব ধরনের বৈষম্য, নিপীড়ন ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ নেন।
হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের এই আয়োজন প্রমাণ করে, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের মানুষের স্মৃতিতে আজও অম্লান। তাদের স্মরণে উচ্চারিত হয় একটাই অঙ্গীকার—শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।