• বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
আলীকদম বাস টার্মিনাল এলাকায় টমটমের ধাক্কায় ১৩ বছরের শিশু গুরুতর আহত গোলাপগঞ্জে অস্ত্রের মহড়া: ভাইরাল ভিডিওর তিন যুবক গ্রেফতার চিতলমারীতে মাদক অভিযানে গ্রেফতার ১০ উদ্ধার ০১ মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সিলেটে আ. লীগের ঝটিকা মিছিল, ৪ জন আটক! তানোরে কৃষকের দীর্ঘশ্বাস ধান, আম, আলু, পেঁয়াজ ও রসুনে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে চাষিরা ফকিরহাটে কৃষক দল নেতা খুনের মামলায় গ্রেপ্তার-২ ভাণ্ডারিয়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার মানবাধিকার, সাংবাদিকতা ও শাহজাহান বাশারের পথচলা রাজশাহীর তানোরে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত

ভাণ্ডারিয়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

Reporter Name / ৩১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় শাহাদাৎ হোসেন বাপ্পি (২৭) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার কানুয়া (৮নং ওয়ার্ড) এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত বাপ্পি উপজেলার ১ নম্বর ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শিয়ালকাঠী গ্রামের শহিদ হাওলাদারের ছেলে। তিনি আহাদ হাওলাদার মুরসালিন (৬) এবং মুসফিকা (সাড়ে ৩ বছর) নামের দুটি সন্তানের জনক।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত বাপ্পির স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম গার্মেন্টসের কাজের জন্য জর্ডানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু স্বামী বাপ্পি ও তার পরিবার এতে রাজি ছিলেন না। এই পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মীম কিছুদিন আগে তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশ যাওয়ার কাগজপত্র তৈরির অজুহাতে মীম প্রায়ই ঢাকায় যাতায়াত করতেন এবং বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করতেন।

পরিবারের দাবি, গত ১১ জুন মীম বাপ্পিকে না জানিয়ে পুনরায় ঢাকায় গিয়ে একটি হোটেলে অবস্থান নেন। ওই সময় বাপ্পি মোবাইল ফোনে স্ত্রীর সাথে রাগারাগি করেন। একপর্যায়ে ভিডিও কল দিলে মীম যে হোটেল রুমে ছিলেন, সেখানে এক পরপুরুষকে দেখতে পান বাপ্পি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে পৌঁছায়।

পরবর্তীতে গত ১৪ জুন মীম ঢাকা থেকে কানুয়ায় তার বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং মোবাইল ফোনে বাপ্পিকে সেখানে ডেকে নেন।

নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম জানান, গতকাল ১৫ জুন (সোমবার) দিবাগত রাতে খাবার শেষ করে তাদের মধ্যে বরাবরের মতোই কথাকাটাকাটি হয়। এরপর রাত ১টার দিকে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে মীমের ঘুম ভাঙলে তিনি বাপ্পিকে খাটে না দেখে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরের আড়ার (কাজপাইর) সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় বাপ্পিকে ঝুলতে দেখেন। মীমের ভাষ্যমতে, তিনি একাই ওড়না কেটে বাপ্পির দেহ নিচে নামিয়ে খাটে রাখেন এবং পরে বাপ্পির পরিবারকে খবর দেন।

তবে বাপ্পির মা রুবী বেগম এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আমার ছেলেকে হত্যা করে এখন গলায় ফাঁসের নাটক সাজানো হচ্ছে। পুত্রবধূ মীম উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করত এবং একাধিক পুরুষের সাথে তার সম্পর্ক রয়েছে। ঘটনার দুই দিন আগেও সে ঢাকায় অন্য পুরুষের সাথে হোটেলে ছিল, যা আমার ছেলে ভিডিও কলে দেখে ফেলে। এই ক্ষোভ থেকেই তারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে বাপ্পির মা রুবী বেগম মীমদের বাড়িতে এসে আহাজারি শুরু করলে একপর্যায়ে মীমের চাচাতো ভাই বেল্লাল হাওলাদার তাকে বাঁশ দিয়ে মারধর করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রত্নেশর কুমার মন্ডল জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানা গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd