োনাগেশ্বরী উপজেলা প্রতিনিধি
পেশা বা কর্মের ভিন্নতা মানবসমাজের এক শাশ্বত বাস্তবতা। জীবিকা নির্বাহ, সমাজের গতিশীলতা রক্ষা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর সার্বিক অর্জনের জন্য মানুষকে নানা ধরনের কাজের সাথে যুক্ত হতে হয়। কেউ হয়তো অফিসে বসে নীতি নির্ধারণ করেন, কেউবা তপ্ত রোদে মাঠে ফসল ফলান; কেউ সংবাদ সংগ্রহে দিনরাত ছুটোছুটি করেন, আবার কেউ কলমের ধার দিয়ে সমাজের অসংগতি ও সত্য তুলে ধরেন। কিন্তু পেশা বা পদের ধরণ দিয়ে কখনো মানুষের কাজের প্রকৃত মর্যাদা মাপা যায় না। কর্ম যেমনই হোক না কেন—সাফল্য, সামাজিক সম্মান এবং আত্মতৃপ্তি অর্জনের একমাত্র সত্য শর্ত হলো সততা ও নিজ কর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ।
আমাদের সমাজে প্রায়শই দেখা যায়—কাজের ধরন দেখে মানুষকে মেপে নেওয়ার এক ভুল প্রবণতা রয়েছে। অথচ সততার সাথে সম্পন্ন প্রতিটি কাজই সমান মর্যাদার দাবিদার। পদের বড়ত্ব কিংবা কাজের বাহ্যিক চাকচিক্য কখনো একজন মানুষকে মহান করে তোলে না, যদি না তার মধ্যে কাজের প্রতি শ্রদ্ধা ও নীতিবোধ থাকে। একজন মানুষ সমাজে যে দায়িত্বই পালন করুন না কেন, তিনি যদি তা সততা ও নিষ্ঠার সাথে সম্পন্ন করেন, তবে সেই কাজই সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।
সংগঠক হিসেবে আমরা যখন কোনো সামাজিক দায়বদ্ধতা বা উদ্যোগ হাতে নিই, তখন সততাই হয় সেই সংগঠনের মূল শক্তি। কোনো লোভ বা ব্যক্তিপ্রতিষ্ঠার মোহ যেন কাজের উদ্দেশ্যকে ধূলিসাৎ না করে, সেই বিষয়ে সচেতন থাকাই হলো অর্পিত দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধা। একজন সংবাদকর্মী যখন পেশাগত জীবনের মুখোমুখি তখন তাকে নিরপেক্ষতা ও সততার কঠোর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। সত্য প্রকাশে কোনো আপস না করা এবং ভয় বা প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে সংবাদ পরিবেশন করাই হলো এই পেশার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাবোধ। ঠিক তেমনি, কলামিস্ট হিসেবে যখন আমরা কলম ধরি, তখন আমাদের লেখায় সত্যতা, গঠনমূলক ভাবনা এবং নীতিগত অবস্থান বজায় রাখাই পরম দায়িত্ব। সততাহীন লেখনী কেবল পথভ্রষ্টতাই তৈরি করে, যা সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
বিপরীতভাবে, কোনো মানুষ যদি পরম সম্মানজনক বা বড় পদে থেকেও নিজ কর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হন কিংবা সততা বিসর্জন দেন, তবে সেই কর্ম কেবল ক্ষণিকের সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা শ্রদ্ধা ও সুনাম দুটোই ধ্বংস করে। কাজের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকলে সেখানে ফাঁকি ও দুর্নীতির জন্ম হয়, যা সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়।
পরিশেষে বলব, কাজ ছোট বা বড় বলে কিছু নেই; আসল বিষয় হলো আপনি আপনার দায়িত্বের প্রতি কতটা বিশ্বস্ত। সততা ও কাজের প্রতি ভালোবাসা কোনো সাধারণ কাজকেও অসাধারণ উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারক—সবাই যদি নিজ নিজ কর্মকে ইবাদত বা পবিত্র দায়িত্ব মনে করে সততার সাথে পথ চলেন, তবেই একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। নিজ কর্মকে ভালোবাসুন, সৎ থাকুন—সম্মান ও সফলতা আপন নিয়মে আপনার দুয়ারে আসবেই।