• শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
ব্রাহ্মণপাড়ায় মাদক সেবনের দায়ে ৩ জনকে কারাদণ্ড বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি একজন খলনায়ক থাকতেই হবে? নাগেশ্বরীতে মাদকমুক্ত সমাজ গরতে গিরার পাড় তরুণ সংঘের কঠিন হুশিয়ারি সিলেটে পুলিশের বড় ধাক্কা: বিশেষ ক্ষমতাবলে সাবেক ২ ওসিসহ ৫৬ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে পরকীয়ায় জড়িয়ে মা/দ/কা/স/ক্ত, আবিদের ঝুলন্ত ম/রা/দে/হ উদ্ধার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ -এর নেতৃবৃন্দের নাগেশ্বরী থানার ওসির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ আমার বাপেরে ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে আর আমরা দুই ভাইয়ে ওরে কোপাইছি মোল্লাহাটে থানা পুলিশের মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান ​নাগেশ্বরীতে ​হাউরিভিটা মসজিদের উন্নয়ন কাজে হাজী সোহেলের ২০ বস্তা সিমেন্ট অনুদান তানোর গোল্লাপাড়া বাজারে ‘আবেদা এন্টারপ্রাইজ’-এর শুভ উদ্বোধন

শিক্ষা ও সংস্কৃতি_জাতির মেরুদণ্ডের পুনর্জাগরণ

Reporter Name / ১৭৮ Time View
Update : বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫

মো. শাহজাহান বাশার

“শিক্ষা ও সংস্কৃতি—এই দুই ধারাই একটি জাতির আত্মা।”
কথাটি শুধু সাহিত্যিক ভাবেই নয়, বাস্তবতার গভীর চিত্রও তুলে ধরে। একটি জাতি তখনই টিকে থাকে, যখন তার মানুষ শিক্ষায় আলোকিত ও সংস্কৃতিতে শেকড়-প্রোথিত হয়।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ক্রমাগত পরিবর্তন ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নতুন পাঠ্যক্রম, ডিজিটাল শিক্ষা, মূল্যায়ন পদ্ধতির রূপান্তর—সবকিছুই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সময়োপযোগী করে তুলতে চেষ্টা করছে।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—আমরা কি কেবল পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষা গড়ে তুলছি, নাকি প্রকৃত অর্থে মানবিক শিক্ষা দিচ্ছি?
শিক্ষা তখনই ফলপ্রসূ হয়, যখন ছাত্র কেবল তথ্য মুখস্থ না করে—বিচার-বুদ্ধি, নৈতিকতা ও মানবিকতা শেখে। আজকের সমাজে সেই মানবিক বোধের অভাবই আমাদের বড় দুর্বলতা।

সংস্কৃতি হলো জাতির আত্মপরিচয়। গান, কবিতা, নাটক, লোকসংগীত, উৎসব—এসবই আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য বহন করে। কিন্তু আজকের তরুণ প্রজন্মের অনেকেই স্থানীয় সংস্কৃতির চেয়ে পাশ্চাত্য অনুকরণে বেশি আগ্রহী।
এটি দোষ নয়, তবে অন্ধ অনুকরণ বিপজ্জনক। আমরা যদি নিজেদের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা হারাই, তাহলে জাতি হিসেবে আত্মপরিচয় হারাবো।
গ্রামে-গঞ্জে যেভাবে একসময় পালাগান, বাউল সঙ্গীত বা নাট্যচর্চা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করত, আজ সেগুলো বিলুপ্তপ্রায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুততার ভিড়ে ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি যেন নিঃশব্দে হারিয়ে যাচ্ছে।

শিক্ষা ও সংস্কৃতি একে অপরের পরিপূরক। শিক্ষা মানুষকে জ্ঞান দেয়, আর সংস্কৃতি দেয় চরিত্র, সৌন্দর্য ও সংবেদনশীলতা।
একজন শিক্ষিত মানুষ যদি সংস্কৃতিবিমুখ হয়, তবে তার শিক্ষা কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকে। আবার, সংস্কৃতি যদি শিক্ষার আলো না পায়, তবে তা কুসংস্কারে রূপ নেয়। তাই শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ই প্রকৃত জাতি গঠনের চাবিকাঠি।

শিক্ষিত সমাজ মানে কেবল সার্টিফিকেটধারী নয়, বরং নৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সচেতন নাগরিক। আমাদের স্কুল-কলেজে নৈতিক শিক্ষা, সাহিত্যচর্চা, সংগীত, নাটক ও বিতর্কচর্চাকে আবার গুরুত্ব দিতে হবে।
পরিবারেও সংস্কৃতি চর্চা বাড়াতে হবে—সন্তানদের বই পড়া, সংগীত শোনা, নাটক দেখা, কবিতা আবৃত্তির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে।

একটি জাতি তখনই মহৎ হয়, যখন তার শিক্ষা মানুষকে করে মানবিক, সংস্কৃতি করে সংবেদনশীল, আর সমাজ করে ঐক্যবদ্ধ।
বাংলাদেশের এই যাত্রায় আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব—নিজেকে শিক্ষিত করা, এবং সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।
কারণ শিক্ষা ও সংস্কৃতি—এই দুটোই আমাদের অস্তিত্বের দুটি ডানা। এক ডানা ভাঙলে উড়তে পারা যায় না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd