• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে মইনীয়া যুব ফোরামের মানববন্ধন, নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি তানোরে অনুমতি ছাড়াই গভীর রাতে মাটি উত্তোলন: প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার কিনব্রিজের নিচে সুইপার কলোনী যেন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে মাদকের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে   ডিবি (উত্তর) অভিযানে ১ কেজি ৫০০গ্রাম গাঁজাসহ ৪ জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আশুলিয়া জামগড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিমেল মীরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪ বুড়িচং এ ৪৭তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত রাজশাহীর তানোরে বাম্পার বোরো ফলন সোনালী স্বপ্নে বিভোর কৃষক, তবে দুশ্চিন্তায় বাজার ও মৎস্যজীবীরা বিদায় অনুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্ত, ভান্ডারিয়ায় সংবর্ধিত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দ আনোয়ারায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা! ডিবি (উত্তর)-এর পৃথক অভিযানে ১.৫ কেজি গাঁজাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ভাষা সৈনিক পরিবারের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ- কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে

Reporter Name / ২৪০ Time View
Update : বুধবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৪

মোঃ সাবিউদ্দিন: ময়মনসিংহে অভিনব কায়দায় জাল-জালিয়াতি করে এক ভাষাসৈনিক পরিবারের তিনতলা বাড়ি ও জমি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাড়ির কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে। যে মালিকের বাড়িতে করতেন চাকরি সেই বাড়িটিই দখল করে নিয়েছেন তিনি। মামলার ফাঁদে পরে জীবনসায়াহ্নে এসে নিজ পৈতৃক ভিটা ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভাষা সৈনিক ও কৃষি বিজ্ঞানী ড. ভুইয়া নুরুল ইসলামের স্ত্রী বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নার্গিস আনার বেগম।

গণমাধ্যম এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে কীভাবে অস্তিত্বহীনের নামে জন্মসনদ ও ওয়ারিশান সার্টিফিকেট তৈরি করে কৌশলে লিখে নেওয়া হয়েছে জমি ও বাড়ি।

ময়মনসিংহ বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নার্গিস আনার বেগমের ১৯৮৮ সালে নির্মাণ করা বাড়িসহ ৮ দশমিক ৯২ শতাংশ জায়গা জাল-জালিয়াতি করে ২০২২ সালে দখল করে নিয়েছে তারই বাসার কেয়ারটেকার। জমির বিআরএস রেকর্ডে ভুলে নার্গিস আনার বেগমের নামের স্থানে নাম ওঠে উপেন্দ্র কিশোর তরফদারের। বাসার কেয়ারটেকার আব্দুল হাই এটি টের পেয়ে অন্য এক ব্যক্তিকে উপেন্দ্র কিশোর সাজিয়ে নিজের ও স্থানীয় আরও ১৭ জনের নামে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন। এর মধ্যে আদালতে মামলা করে নাম সংশোধন করেন নার্গিস আনার বেগম। তবে ততদিনে কেয়ারটেকার আব্দুল হাই নতুন মালিক সেজে বাড়ি থেকে তাকেই বিতাড়িত করেন।

গণমাধ্যম কর্মীর অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে, উপেন্দ্র কিশোরের নামে একটি জন্মনিবন্ধন করা হয় জেলার তারাকান্দার কাকনী ইউনিয়ন পরিষদে। তবে নিবন্ধনের সময় বিধি মোতাবেক কোনো কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়নি। উপেন্দ্র কিশোরের নামে যে মোবাইল নম্বরটি ব্যবহার করা হয়েছে এটির মালিক আব্দুল কাদির নামে এক ব্যক্তি। স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ে করা হয়েছে জমি রেজিস্ট্রি। জায়গা দখল করে সাজানো হয়েছে মামলার ফাঁদ। স্বামী ভাষাসৈনিক ও কৃষি বিজ্ঞানী ড. ভুইয়া নুরুল ইসলাম মারা গেছেন। এখন নার্গিস আনার বেগম শেষ বয়সে এসে পৈতৃক ভিটা ফিরে পেতে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে।

তারাকান্দা উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মঞ্জুরুল হক বলেন, এখানে অবৈধ উপায়ে জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছে। উপেন্দ্র কিশোর নামে আমার ওয়ার্ডে এমন কোনো ব্যক্তি নেই। তবে ইউনিয়ন পরিষদে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জন্ম নিবন্ধনে যে মোবাইল নাম্বারটি দেওয়া ছিল তার নাম আব্দুল কাদির।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর হামিদা পারভিন বলেন, আমার স্বাক্ষর থাকলেও যে প্যাডে ওয়ারিশান সার্টিফিকেট নেওয়া হয়েছে তা জাল-জালিয়াতের মাধ্যমে নিয়েছে। এই ঘটনা খুবই দুঃখজনক।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুল হাই বলেন, আমাকে দুই শতাংশ খালি জায়গা দিয়েছিল নার্গিস আনার বেগম। সেই জায়গায় আমি বাড়ি বানিয়েছি। অন্য আরো ১৭ জন মিলে কীভাবে জমি কিনেছে তা আমি জানি না। উপেন্দ্র কিশোর নামে যে ব্যক্তি জমি দলিল দিয়েছে তাকে আমি চিনি না।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপেন্দ্র কিশোরের নামে একটি জন্মনিবন্ধন করা হয় জেলার তারাকান্দার কাকনী ইউনিয়ন পরিষদে। অথচ ৯ নং ওয়ার্ডে এই নামে কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব নেই।

ভাষা সৈনিক ও কৃষি বিজ্ঞানী ড. ভুইয়া নুরুল ইসলামের স্ত্রী সাবেক প্রধান শিক্ষক নার্গিস আনার বেগম বলেন, আমি কষ্ট করে আমার চাকরির টাকা দিয়ে তিনতলা বাড়িটি বানিয়েছিলাম। আমার ছেলেমেয়েরা বাইরে থাকে। আমি ঢাকায় থাকায় কেয়ারটেকার হিসেবে আব্দুল হাইকে নিজ বাড়িতে থাকতে দিয়েছিলাম। তার তিন সন্তানের পড়াশোনার দায়িত্বও নিয়েছিলাম আমি। পাশাপাশি বিদ্যাময়ী স্কুলে ঝারুদারের চাকরি দিয়েছিলাম। সহজসরল ভেবে সব দায়িত্ব দিয়েছিলাম হাইকে। সেই সরলতার সুযোগে জাল দলিল করে ভুয়া মৃত্যুর সনদ বানিয়ে আমার বাড়ি দখল করে নিয়েছে সে।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, একজন ভাষাসৈনিক ও প্রধান শিক্ষকের বাড়ি জাল জালিয়াতের মাধ্যমে দখল করে নেওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে একজন ভাষা সৈনিক ও প্রধান শিক্ষকের পাশে থাকব আমরা। যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd