মোঃ শাহজাহান বাশার
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার আনন্দপুর-নোয়াপাড়া সীমান্ত এলাকায় পবিত্র ঈদের দিনেও মাদক কেনাবেচা থামেনি এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তঘেঁষা এই এলাকায় মাদক পাচার ও সরবরাহ কার্যক্রম চললেও দৃশ্যমান কঠোর অভিযান না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েই চলেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকশিমুল ইউনিয়নের আনন্দপুর-নোয়াপাড়া সীমান্ত এলাকা মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তের ওপার থেকে মাদক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আনন্দপুর নোয়াপাড়া এলাকার মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে বিল্লাল মিয়া (মা: পারভীন আক্তার) আক্তারের ছেলে দীর্ঘদিন ধরে এই মাদক চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ সীমান্তপথ ব্যবহার করে মাদক এনে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিতরণ করছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
সাথে মো. জমির মিয়া (পিতা: বাচ্চু মিয়া) ও আব্দুল হক দেলু নামের আরও কয়েকজন ব্যক্তির নামও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে উঠে এসেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এই চক্রটি প্রভাবশালী ও সুসংগঠিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ সহজে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা পরিবার নিয়ে বসবাস করি। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই আমাদের হুমকি দেওয়া হয়। ঈদের মতো পবিত্র দিনেও যখন প্রকাশ্যে এসব চলে, তখন আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?”
অন্যান্য স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঈদের দিনেও সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক যাতায়াত ও মাদক লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তারা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জরুরি ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বুড়িচং থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে খাড়েরা BGB ক্যাম্প কমান্ডার জানিয়েছেন, “আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছি। তবে স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করি।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে আনন্দপুর-নোয়াপাড়া সীমান্ত এলাকা মাদকমুক্ত হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও স্বস্তির পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।