হামিদুর রহমান , তানোর (রাজশাহী)প্রতিনিধি :
রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুণ্ডমালা ২ নম্বর ইউনিয়নের বাধাইড় এলাকায় সরকারি রাস্তার ওপর খুঁটি পুঁতে চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা আসমত আলী টুডুর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল প্রায় ৮টার দিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসমত আলী টুডু, পিতা মৃত মফিজ উদ্দিন, হঠাৎ করেই সরকারি রাস্তার ওপর একাধিক খুঁটি পুঁতে রাস্তা বন্ধ করে দেন। এতে করে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও কৃষকদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। খবর পেয়ে বাধাইড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে খুঁটি অপসারণের নির্দেশ দেন।
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের নির্দেশ সত্ত্বেও রাস্তার সব খুঁটি অপসারণ করা হয়নি। এতে করে আসমত আলী টুডুর প্রতি স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, আসমত আলী টুডু দীর্ঘদিন ধরে বাধাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টা করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই জায়গায় বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারকে জোরপূর্বক ঘরবাড়ি ভাঙতে নিষেধ করেছেন তিনি, যাতে ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা সম্ভব না হয়।
এছাড়াও স্থানীয়রা দাবি করেন, পরানপুর খাড়ি থেকে বাধাইড় পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের সরকারি গাছ তিনি একাই কেটে আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, আসমত আলী টুডু এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে একাধিক বরেন্দ্র গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন এবং এসব নলকূপের মাধ্যমে এলাকার কৃষকদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে জিম্মি করে রেখেছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আসমত আলী টুডু বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। ফলে ভয়ে অনেকেই তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর একটাই দাবি— তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আসমত আলী টুডুকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তবে এ বিষয়ে আসমত আলী টুডুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর মতে, দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এলাকায় বড় ধরনের সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।