আজিজুল গাজী, জেলা প্রতিনিধি, বাগেরহাট।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence (AI) প্রযুক্তির অন্যতম বড় সীমাবদ্ধতা ‘ব্ল্যাক বক্স’ সমস্যার একটি নতুন সমাধান প্রস্তাব করেছেন বাংলাদেশের স্বতন্ত্র গবেষক জি.কে.এম. জারিফ উর রহিম (রাশিক)।
তার প্রস্তাবিত “Binary Interface of Consciousness (BIC)” তত্ত্ব প্রযুক্তি মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বর্তমান সময়ে ডিপ লার্নিং ও বড় ভাষা মডেল বিপুল ডেটা ও জটিল অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়, তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না—এই অস্বচ্ছতাকেই বলা হয় ‘ব্ল্যাক বক্স’ সমস্যা। যদিও Explainable AI (XAI) পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে তা মূলত সিদ্ধান্তের পর অনুমানভিত্তিক বিশ্লেষণ।
এই প্রেক্ষাপটে জারিফ উর রহিম একটি ভিন্নধর্মী ধারণা উপস্থাপন করেছেন, যেখানে মানুষের চেতনা, হৃদয় ও মস্তিষ্ককে একত্রে একটি প্রযুক্তিগত কাঠামো হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আত্মা বা ‘Ruh/Atman’কে ধরা হয়েছে সফটওয়্যার বা উদ্দেশ্যের স্তর হিসেবে
মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রকে হার্ডওয়্যার
হৃদয় (Qalb)কে একটি “বাইনারি ইন্টারপ্রেটার” বা কের্নেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে
গবেষকের দাবি, এই “Qalb-Kernel” সম্ভাব্যতা-নির্ভর নয়; বরং নির্ধারিত বাইনারি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কাজ করে। ফলে প্রতিটি সিদ্ধান্তের উৎস ও প্রক্রিয়া সহজেই অনুসরণযোগ্য হয়ে ওঠে।
গবেষণায় Neurocardiology সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে বলা হয়—
হৃদয় মস্তিষ্কের তুলনায় বেশি সংকেত প্রেরণ করতে পারে এবং এর ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্ষেত্র তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।
এছাড়া “Peripheral Reception Hypothesis (PRH)” নামে একটি ধারণাও উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে শরীরের লোমকূপ ও হৃদয়কে তথ্য গ্রহণের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এই তত্ত্বে ইসলাম, হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধ দর্শন এবং পাশ্চাত্যের মিস্টিসিজমের বিভিন্ন ধারণার সঙ্গে মিল খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। গবেষকের মতে, এগুলো কেবল আধ্যাত্মিক বিষয় নয়; বরং একটি সার্বজনীন বাস্তবতা, যা প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
গবেষণায় একটি নতুন এআই কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে—
“উদ্দেশ্য → নির্ধারিত সিদ্ধান্ত → আউটপুট” ধাপে এআই কাজ করবে এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত হবে স্বচ্ছ ও নিরীক্ষাযোগ্য।
এর মাধ্যমে—
Explainability (স্বচ্ছতা)
Intention Alignment (উদ্দেশ্যের সামঞ্জস্য)
AI Safety (নিরাপত্তা)
নিশ্চিত করা সম্ভব বলে দাবি করা হয়েছে।
বিশ্ব যখন Artificial General Intelligence (AGI)-এর দিকে এগোচ্ছে, তখন এআই-এর স্বচ্ছতা, নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তত্ত্বটি একটি সম্ভাবনাময় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে গবেষণাটি এখনো প্রিপ্রিন্ট পর্যায়ে রয়েছে এবং বাস্তব পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা বাকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর কার্যকারিতা প্রমাণে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন:
https://jarifurrahim.one