তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোর উপজেলা ভূমি অফিসের মিউটেশন কাম-সার্টিফিকেট অ্যাসিস্ট্যান্ট ইমরুল কাশেম ইমন ঘুষ ও দুর্নীতির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও থামেনি তার অপকর্ম। বরখাস্তাদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনো তাকে নিজ কক্ষে বসিয়ে নামজারি ও ফাইলপত্র দেখভালের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে।
গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইমরুল কাশেম ইমনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হলেও স্থানীয় তানোর ভূমি অফিসে তার প্রভাব কমেনি এতোটুক।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তানোর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) শিব সংকর বসাকের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ প্রভাবে বরখাস্তকৃত ইমন দিব্যি আগের মতো নিজের চেয়ারে বহাল রয়েছেন। নিয়মবহির্ভূতভাবে তাকে দপ্তরে প্রবেশাধিকার দিয়ে ফাইলপত্র নাড়াচাড়া ও গোপনীয় কাজ করানোর ঘটনায় সেবাগ্রহীতাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ইমন সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও গতকাল ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পর্যন্ত অফিসে বিভিন্ন নামজারি ফাইলপত্র নাড়াঘাটা করেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া শুনানির সময় এসিল্যান্ডের কক্ষে সামনের চেয়ারে বসে তাকে খবরদারী করতে দেখা যায়। এসময় প্রত্যক্ষদর্শীরা মোবাইল ভিডিও করতে চাইলে বাধা দেয়া হয়। এজন্য ভিডিও করা ও ছবি তোলা সম্ভব হয়নি। এমন চিত্র এসিল্যান্ড কক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ অনুসন্ধান করা হলে সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরে শুনানি হওয়া ফাইলগুলো ইমন তার কক্ষে নিয়ে এসিল্যান্ডের নামে ১ হাজার ও তার হাত খরচের নামে ৫০০ টাকা, সর্বমোট দেড় হাজার টাকা আদায় করেন। যারা তার চাহিদা মত ঘুষের টাকা দিয়েছেন তাদের নামজারি পাশ হয়ে গেছে। আর যারা দেননি তাদের অনেকের ফাইল না মঞ্জুর করা হয়েছে বলে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইতিপূর্বেও ইমনের ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ ছিল সাধারণ মানুষ।
জেলা প্রশাসকের কঠোর পদক্ষেপের পর মানুষ দুর্নীতিমুক্ত ভূমি সেবার আশা করলেও এসিল্যান্ড শিব সংকর বসাকের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে সেই আশা ভেস্তে গেছে। একজন বরখাস্তকৃত দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মীকে নিজ কক্ষে আশ্রয় দিয়ে এসিল্যান্ড ঠিক কী বার্তা দিচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে বরখাস্তকৃত কর্মচারী ইমরুল কাশেম ইমনের ভূমি অফিসে প্রবেশ ও কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, একজন সাময়িক বরখাস্তকৃত কর্মীকে কীভাবে এসিল্যান্ড দপ্তরে বসিয়ে রাখছেন-তা খতিয়ে দেখতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার তানোর উপজেলা ভূমি অফিসের মিউটেশন কাম-সার্টিফিকেট অ্যাসিস্ট্যান্ট ইমরুল কাশেম ইমন বলেন, আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে ঠিক আছে। কিন্তু বরখাস্ত আদেশে অফিসে বসে কোন ফাইলপত্র দেখভাল করা যাবে কি না আদেশে এমনতি উল্লেখ করা হয়নি বলে এড়িয়ে গেছেন তিনি।
এব্যাপারে তানোর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব সংকর বসাকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ই/তা