মোঃ শাহজাহান বাশার
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে দেশে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বন্ধ পেট্রোল পাম্পের সামনেও তেল নেওয়ার আশায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে শত শত গাড়ি ও মোটরসাইকেলচালককে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই নিশ্চিত হতে পারছেন না—শেষ পর্যন্ত তেল পাবেন কি না।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেনা পরিচালিত ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনসহ কয়েকটি পাম্পে ভোর থেকেই তেল নেওয়ার জন্য যানবাহনের সারি পড়ে যায়। সকাল ৯টা পর্যন্ত সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহের পর ‘তেল নেই’ ঘোষণা দিয়ে পাম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে থাকা মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িচালকেরা।
অপেক্ষমাণ এক মোটরসাইকেলচালক বলেন, “ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। অফিসে যেতে হবে, কিন্তু তেল পাব কি না জানি না। হঠাৎ করে বন্ধ ঘোষণা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছি।”
আরেক প্রাইভেটকার চালক জানান, “শোনা যাচ্ছে বিকেল ৩টার দিকে আবার তেল আসতে পারে। কিন্তু নিশ্চিত কোনো ঘোষণা নেই। এই অনিশ্চয়তার কারণে কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।”
রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও পাম্প সম্পূর্ণ বন্ধ, কোথাও আবার সীমিত সময়ের জন্য তেল সরবরাহ করে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে সড়কে যানবাহনের চাপ কমলেও ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক পরিবহন খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটলে দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সাময়িক এই সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।
পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সামনের দিনগুলোতে পরিবহন খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা।