**(কিউ,এ,এম আহসানুল হক
খুলনা জেলা প্রতিনিধি
দৈনিক যুগান্তর বাংলাদেশ ২
খুলনার ফুলতলার চাঞ্চল্যকর কিশোর সাব্বির হোসেন (১৯) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১ ও ৩ নম্বর আসামিকে দীর্ঘ চার মাস পর গ্রেপ্তার করেছে ফুলতলা থানা পুলিশ| গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলো— দামোদার (জমাদার পাড়া) এলাকার জাহাঙ্গীর জমাদ্দারের ছেলে ১ নম্বর আসামি মাহিন জমাদ্দার (৪০) এবং ৩ নম্বর আসামি সুফিয়ান জমাদ্দার (১৮)|
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার পুলিশ গোপনে অভিযান চালিয়ে এই দুই আসামিকে আটক করে| তবে বিষয়টি প্রকাশ না করে গোপনীয়তা রক্ষার চেষ্টা চালায় থানা পুলিশ| আজ সোমবার বেলা আনুমানিক ২টার দিকে আসামিদের খুলনার আদালতে ও কারাগারে প্রেরণের সময় থানায় উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পুলিশ সদস্যরা| এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের বিষয়ে ফুলতলা থানার ওসির বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান|
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল রাত আনুমানিক পৌনে ৮ টায় ফুলতলা থানাধীন দামোদার (জমাদারপাড়া) গ্রামে সাব্বির হোসেন তার বন্ধু সাধীনকে নিয়ে যাওয়ার সময় আসামিরা তাদের পথরোধ করে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে| ৪-৫ দিন আগে ২ ও ৩ নম্বর আসামি (সিজান ও সুফিয়ান) ভিকটিম সাব্বিরদের বাড়ির পাশে মাদক সেবন করতে এলে সাব্বির তাতে বাধা দেয়| এ নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে আসামিরা তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল এবং সুযোগ খুঁজছিল| ঘটনার রাতে ১ নম্বর আসামি মাহিন জমাদ্দার পেছন থেকে সাব্বিরকে ঝাপটে ধরে এবং ৩ নম্বর আসামি সুফিয়ান জমাদ্দার ও অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে আটকে রাখে| এ সময় ২ নম্বর আসামি সিজান জমাদ্দার তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে সাব্বিরের পেটে নাভির ওপর সজোরে পোঁচ মারে, যার ফলে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়| তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বন্ধু সাধীন (১৬) ও নিরব (২২) কে ও নির্মমভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়| পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই সাব্বির মৃত্যুবরণ করেন| এ ঘটনায় ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নিহত সাব্বিরের পিতা এস.এম গোলাম মোস্তফা সরদার বাদী হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করে ফুলতলা থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-৭) দায়ের করেন|
হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ চার মাস পার হলেও প্রধান আসামিরা অধরা থাকায় নিহত সাব্বিরের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল| দীর্ঘ দিন পর ১ ও ৩ নম্বর আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও মামলার প্রধান অভিযুক্ত ২ নম্বর আসামি সিজান জমাদ্দার সহ অন্যান্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী|