মো. মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
জেলা প্রতিনিধি, ভোলাঃ
ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ ঘটনায় কলেজ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, কয়েকজন শিক্ষক ও কয়েকজন পথচারী আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা শেষে চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চরফ্যাশন সরকারি কলেজের ৮৮৪ জন পরীক্ষার্থী ওই কেন্দ্রে আইসিটি পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষা শুরুর পর ১০৪ নম্বর কক্ষের কয়েকজন পরীক্ষার্থী প্রশ্নপত্র নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে সেই উত্তেজনা কেন্দ্রের অন্যান্য কক্ষেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে কেন্দ্র সচিব, হল সুপার এবং ইউএনওর প্রতিনিধি কঠোর তদারকির মাধ্যমে পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
পরীক্ষা শেষে একদল শিক্ষার্থী কলেজের মূল ফটকে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। পরে তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে অফিস কক্ষের জানালার কাচ ভাঙচুর এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। পরে চরফ্যাশন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রটি সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল। কিছু পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করেন। পরীক্ষা শেষে ক্ষুব্ধ কিছু শিক্ষার্থী কলেজের গেট ও অফিস কক্ষে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
ইউএনওর প্রতিনিধি ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসাইন বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর নজরদারি ছিল। অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ না পেয়ে কিছু পরীক্ষার্থী বিক্ষুব্ধ হয়ে ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরীক্ষার উত্তরপত্র নিরাপদে উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়।
চরফ্যাশন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক জসিম উদ্দীনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, “প্রশ্ন কঠিন হওয়া এবং পরীক্ষার হলে শিক্ষকদের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে কিছু পরীক্ষার্থী পরীক্ষা শেষে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মেঃ মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
জেলা প্রতিনিধি ভোলা
০১৬১৬৬৬৭৪৯৬