হামিদুর রহমান , তানোর (রাজশাহী)প্রতিনিধি :
রাজশাহীর তানোরে সরকারি রাস্তার পাশে থাকা ইউক্যালিপটাস গাছ অনুমতি ছাড়া কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আব্দুল বাসিরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গাছ কাটার বিষয়ে বাধা দিতে গেলে স্থানীয়দের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. শহিদুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তি।
গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ আনুমানিক সকাল ৮টার দিকে তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়নের শালবাড়ী গ্রামের পাকড়তলা মোড়ের পূর্ব পাশে সরকারি রাস্তার ধারে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে শালবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মো. শহিদুল ইসলাম (৪৫) উল্লেখ করেন, একই গ্রামের আব্দুল বাসির (৪৭), পিতা—মৃত ফজলুর রহমান সরকারি রাস্তার পাশে থাকা একটি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেলেন।
অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে গ্রামের লোকজন আব্দুল বাসিরকে সরকারি রাস্তার পাশের গাছ কাটার বিষয়ে নিষেধ করেন এবং গাছ কাটার কারণ জানতে চান। এ সময় তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর না দিয়ে নিজের ইচ্ছায় ওই গাছ কেটেছেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আরও গাছ কাটবেন বলে জানান—এমন অভিযোগ করেছেন বাদী।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এর আগেও অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে রাস্তার ধারে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধন হচ্ছে বলে অভিযোগকারী উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, সরকারি সম্পত্তির গাছ কাটার বিষয়ে বাধা প্রদান বা কারণ জানতে চাইলে স্থানীয় লোকজনকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। ফলে সাধারণ মানুষ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে কিংবা সরকারি গাছ কাটায় বাধা দিতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা না হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি রাস্তার ধারে থাকা অবশিষ্ট সরকারি গাছও কেটে সরকারি সম্পত্তির আরও ক্ষতিসাধন করতে পারেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সফল না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান অভিযোগকারী।
অভিযোগের সমর্থনে ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন বলেও লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে **মো. শাহাদাত ইসলাম (৭০), মো. শাফিউল ইসলাম (৫০) ও মো. মণ্টু আলী (৬০)**সহ স্থানীয় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা ঘটনাটি সম্পর্কে জানেন ও দেখেছেন বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মো. শহিদুল ইসলাম তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে সরকারি সম্পত্তির গাছ কাটার অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের দাবি
সরকারি রাস্তার পাশে লাগানো গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচলের পথের সৌন্দর্য ও নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখে। এসব গাছ অনুমতি ছাড়া কেটে ফেলার অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।