মোঃ শাহজাহান বাশার
সাংবাদিকতা হচ্ছে সমাজের নীরব চোখ, জনগণের কণ্ঠস্বর এবং সত্যের পথ প্রদর্শক। কিন্তু আমাদের সাংবাদিক সমাজের মধ্যে একটি দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—সত্যের পক্ষে দাঁড়ালে অনেক সময় সাংবাদিক নিজেই হয় আক্রমণের লক্ষ্য। দুর্নীতি, অনিয়ম, অপসংস্কৃতি, মাদক ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করলে কেউ ‘চাটুকারিতা’ বা ‘দোষারোপের’ লেবেল দেয়, কেউ গালি দেয়, আবার কেউ আবার ভালোবেসে ‘হাতে তালি’ মারে। এই অমিলের মধ্যে সত্য প্রকাশ করা সহজ নয়।
সত্যের পক্ষে দাঁড়ালে সাংবাদিক খারাপ নয়, সমাজের দৃষ্টিতে তার কাজ হয় অস্বস্তিকর। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এই বাস্তবতা? কেন সাংবাদিকতা তার প্রকৃত আদর্শ থেকে সরানো হচ্ছে? কেন স্বতন্ত্র ও আপোষহীন সাংবাদিকদেরকে সামাজিক ও পেশাগত চাপের মুখে ফেলা হচ্ছে? এ প্রশ্নের উত্তরে আমরা দেখতে পাই—একটি গোপন রাজনৈতিক, সামাজিক ও আর্থিক চাপের জাল।
সব সাংবাদিককে খারাপ বলা যাবে না, কিন্তু দুঃখজনকভাবে, যারা সত্যের পথে এগোতে চায়, তাদেরকে হয় ‘চাটুকার’ বা ‘বিপথগামী’ ভাবার প্রচেষ্টা চালানো হয়। এটি একটি গুরুতর সংকেত যে, সাংবাদিকতার পেশা আজ চাপে আছে এবং তার নৈতিক আদর্শ হুমকির মুখে।
আমার আবেদন হলো—সাংবাদিক সমাজ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের নজর এই দিকটিতে প্রয়োজনীয় মনোযোগ দিন। সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীনভাবে লিখতে পারা, সমাজকে সচেতন করার জন্য প্রয়োজনীয় সাহসের প্রকাশ। সাংবাদিকতার আদর্শ রক্ষার জন্য আমাদের সকলকে একত্রিত হয়ে এই সংকটের মোকাবিলা করতে হবে।
সত্য প্রকাশের জন্য সাহসী সাংবাদিকের প্রতিটি পদক্ষেপ মূল্যবান। সমাজ ও সরকারের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদেরকে নিরাপত্তা ও সমর্থন দেওয়া, যাতে তারা বিনা ভয়ের সত্য লিখতে পারে। অন্যথায়, সাংবাদিকতা হারাবে তার মূল উদ্দেশ্য, এবং সমাজে অন্ধকারের সঙ্গে তাল মেলাবে নিরপেক্ষতার অভাব।
সত্যের পক্ষে সাংবাদিকতা মানে শুধু পেশা নয়—এটি একটি দায়িত্ব, একটি আদর্শ, একটি সামাজিক বাধ্যবাধকতা। আসুন, আমরা সকলেই সেই সাহসী সাংবাদিকদের সমর্থনে দাঁড়াই, যারা সত্যকে সামনে রেখে সমাজকে আলোকিত করতে চায়।