হামিদুর রহমান রাজশাহী জেলাপ্রতিনিধি:
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) লাইন্সে নিয়মিত মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৮টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে এ মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।
মাস্টার প্যারেডে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের সালামি ও অভিবাদন গ্রহণ করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, পিপিএম। প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন বোয়ালিয়া অপরাধ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নাসিদ ফরহাদ।
প্যারেড পরিদর্শনকালে পুলিশ কমিশনার পুলিশ সদস্যদের টার্নআউট, শৃঙ্খলা, কর্মদক্ষতা, শারীরিক সক্ষমতা ও পেশাদারিত্বের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যদের সতর্কতা, নিয়মানুবর্তিতা ও পেশাগত দক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মাস্টার প্যারেড শেষে পুলিশ কমিশনার আরএমপির মোটরযান শাখা, লজিস্টিকস শাখা ও অস্ত্রাগার পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর কার্যক্রম, ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নেন।
দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পূজামণ্ডপসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন পুলিশ কমিশনার।
তিনি বলেন, মাস্টার প্যারেডের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, শারীরিক সক্ষমতা ও পেশাগত দক্ষতা যাচাই করা হয়। পাশাপাশি কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ যোগ্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়। নিয়মিত এ ধরনের প্যারেড পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আরও দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পুলিশ কমিশনার পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে লোভ-লালসা পরিহার করে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশের ভাবমূর্তি ও জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
জনগণের আস্থা অর্জনে জনবান্ধব পুলিশিংয়ের আহ্বান
পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষম থাকতে হবে। পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পেশাগত জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, জনবান্ধব পুলিশিং প্রতিষ্ঠায় প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ করতে হবে। সাধারণ মানুষ যেন পুলিশের কাছে এসে নিরাপত্তা, সহযোগিতা ও ন্যায়সংগত সেবা পাওয়ার নিশ্চয়তা অনুভব করেন—সেদিকে সবাইকে গুরুত্ব দিতে হবে।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশ দেন পুলিশ কমিশনার। যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ও পেশাদারভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রস্তুত থাকারও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ
মাস্টার প্যারেডে আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম), উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর)-এর দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি)-এর দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি, বিভিন্ন জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ও সহকারী পুলিশ কমিশনারগণ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া রাজশাহী মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), বিভিন্ন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং আরএমপির বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মাস্টার প্যারেডে অংশগ্রহণ করেন।
মাস্টার প্যারেডের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, শারীরিক সক্ষমতা ও পেশাগত দক্ষতা আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাসহ নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আরএমপি সদস্যদের প্রস্তুতি ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট হয়েছে।