মারুফ হাসান
ফটো প্রতিনিধি
আজ বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে বাংলাদেশের আকাশে দেখা মিলতে পারে বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক দৃশ্য—পারসেইড উল্কাবৃষ্টি। বুধবার রাত পেরিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে এ উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সক্রিয়তা দেখা যাওয়ার কথা।
জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত পারসেইড উল্কাবৃষ্টি সক্রিয় থাকে। ২০২৬ সালে এর সর্বোচ্চ পর্যায় ১২ থেকে ১৩ আগস্ট রাতে। অন্ধকার আকাশে ঘণ্টায় কয়েক ডজন উল্কা দেখা যেতে পারে।
কেন হয় এই উল্কাবৃষ্টি?
পারসেইড উল্কাবৃষ্টির উৎপত্তি ধূমকেতু ১০৯পি/সুইফট-টাটল থেকে। ধূমকেতুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় মহাকাশে রেখে যাওয়া ক্ষুদ্র ধূলিকণা ও পাথুরে কণা পৃথিবীর কক্ষপথের সঙ্গে মিলে যায়। পৃথিবী সেই ধূলিকণার অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কণাগুলো বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে প্রচণ্ড গতিতে উত্তপ্ত হয়ে জ্বলে ওঠে। তখন আকাশে আলোর ঝলকানি বা ‘ছুটন্ত তারা’র মতো দৃশ্য তৈরি হয়।
কখন ও কীভাবে দেখা যাবে?
বাংলাদেশ থেকে উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য রাত গভীর হওয়ার পর থেকে ভোরের আগ পর্যন্ত সময়টি তুলনামূলক ভালো। শহরের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে খোলা ও অন্ধকার জায়গা বেছে নেওয়া হলে উল্কা দেখার সম্ভাবনা বাড়বে।
এটি দেখতে কোনো টেলিস্কোপের প্রয়োজন নেই। খালি চোখেই আকাশের বিস্তৃত অংশ পর্যবেক্ষণ করা যায়। তবে মেঘলা আকাশ বা অতিরিক্ত আলোকদূষণ থাকলে উল্কা দেখা কঠিন হতে পারে।
এবার কেন বিশেষ?
২০২৬ সালের পারসেইডের সর্বোচ্চ সময়টি নতুন চাঁদের কাছাকাছি হওয়ায় আকাশে চাঁদের আলো খুব কম থাকবে। ফলে অপেক্ষাকৃত অন্ধকার আকাশে ক্ষীণ উল্কাগুলোও দেখার সুযোগ তৈরি হবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, পর্যবেক্ষণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আকাশ পরিষ্কার থাকা এবং শহরের আলো থেকে দূরে অবস্থান করা। তাই আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আজ রাত ও আগামীকাল ভোরে আকাশপ্রেমীদের জন্য এটি হতে পারে দারুণ এক মহাজাগতিক অভিজ্ঞতা।