স্টাফ রিপোর্টার সেলিম রেজা
আশুলিয়ায় ধামসোনা ইউনিয়ন ভাদাইল এলাকা কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিও এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ ও বক্তব্য নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন।এরই মধ্যে অভিযোগ অস্বীকার করে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন বিষয়টিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আলিম মোল্লা আশুলিয়া থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং ধামসোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তিনি ভাদাইল এলাকার গিয়াসউদ্দিনের ছেলে।
এছাড়া, আলিম মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ধামসোনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল গফুর মিয়ার মামাতো ভাই হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে আসছেন।
অনুসন্ধানে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, অতীতে আলিম মোল্লা প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দেন এবং মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছিলেন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, সেই ঘোষণার আড়ালেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেছেন।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, প্রকাশ্যে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, পৃষ্ঠপোষকতা এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইলে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির আশঙ্কায় অনেকেই নীরব থাকেন বলে তারা দাবি করেন।
এদিকে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন—ভাইরাল ভিডিওটি কি ফরেনসিকভাবে যাচাই করা হবে? অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে প্রশাসন কবে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে?
জনগণের প্রত্যাশা, কোনো পক্ষকে আগেভাগে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণা নয়; বরং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য জাতির সামনে তুলে ধরা হোক। সত্যকে আড়াল নয়—আইনের শাসনের স্বার্থে নিরপেক্ষ তদন্তই হোক শেষ কথা।