• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
ড্রেনে ফেনসিডিল ও স্কাপের বোতল এ কেমন সমাজ গড়ছি আমরা? তানোর উপজেলার করিমপুর গ্রামের সরকারি গোরস্থানের জমি দখলে চেষ্টার অভিযোগ, এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ডিসি অফিসের মিটিংয়ের অজুহাতে অফিসে অনুপস্থিত? তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে ঘিরে জনমনে প্রশ্ন সাংবাদিক রেজার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় জামিন, তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন আশুলিয়ায় হত্যা মামলার আসামি আওয়ামীলীগ নেতা হালিম গ্রেফতার ২৬৫ পিস ইয়াবাসহ ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর অভিযানে ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সিলেটে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা: এসএমপি কমিশনার বিএনপি শুধু প্রতিশ্রুতি দেয় না, বাস্তবায়নে বিশ্বাস করে: ড. জিয়াউদ্দিন তানোরে এক যুগ ধরে একে অপরকে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাইকর ও খেজুর গাছ সিলেটে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, সহযোগী দুইজন পলাতক

তানোর উপজেলার করিমপুর গ্রামের সরকারি গোরস্থানের জমি দখলে চেষ্টার অভিযোগ, এলাকাজুড়ে উত্তেজনা

Reporter Name / ৫৯ Time View
Update : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

হামিদুর রহমান, তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি :

রাজশাহীর তানোর উপজেলার করিমপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সরকারি গোরস্থানের জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগে এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, করিমপুর মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি গোরস্থান হিসেবে রেকর্ডকৃত জমি নিয়ে একটি পক্ষ বিতর্কিত ও ভিত্তিহীন দলিলের মাধ্যমে মালিকানা দাবি করে দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
জানা গেছে, করিমপুর সরকারি গোরস্থানটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের মৃতদেহ দাফনের একমাত্র ও প্রধান স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পূর্বপুরুষদের সময় থেকে এ গোরস্থানে এলাকার অসংখ্য মানুষের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি নথিপত্রে জমিটির শ্রেণি ‘গোরস্থান’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
বর্তমান গোরস্থান কমিটির সভাপতি মুরাদ আলী অভিযোগ করেন, আনিস আলী, ইউনুস, মৃত বেলাল উদ্দিনের উত্তরাধিকারীগণ, আব্দুল লতিফ, মতিউর রহমান, রুহুল, দুরুল, আল আমিন ও মৃত আশরাফুলের উত্তরাধিকারীরা সরকারি এই খাস জমির ওপর মালিকানা দাবি করে বিভিন্নভাবে দখলের চেষ্টা করছেন। এ উদ্দেশ্যে তারা বিতর্কিত ও ভিত্তিহীন দলিল সৃষ্টি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা শুধু জমির মালিকানা দাবি করেই ক্ষান্ত হননি, বরং গ্রামের সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এমনকি গ্রামের কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার লাশ দাফনের সময়ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগছে এবং গোরস্থানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
গ্রামবাসীরা আরও জানান, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে গোরস্থানের জমি দখলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মপ্রাণ মানুষ ও গোরস্থান রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ও সরকারি রেকর্ডে গোরস্থান হিসেবে স্বীকৃত জমির ওপর কীভাবে ব্যক্তি মালিকানা দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোরস্থানের জমি রক্ষার দাবিতে গ্রামবাসীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেছেন। ওই রেজুলেশনে সরকারি গোরস্থানের জমি দখলমুক্ত রাখা, ধর্মীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং ভবিষ্যতে নির্বিঘ্নে দাফন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে এলাকাবাসী বলেন, সরকারি সম্পত্তি ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই গোরস্থান রক্ষা করা শুধু করিমপুরবাসীর নয়, বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd